সর্বশেষ
Loading breaking news...

জকসু নির্বাচনে ভিপি ও জিএস পদে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে শিবির সমর্থিত প্যানেল

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে বড় ধরনের চমক দেখা দিয়েছে। ৩১টি কেন্দ্রের গণনায় ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৬৬৬ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে এই চিত্র ফুটে উঠেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘ দুই দশক পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

ভিপি পদে বড় লিড

বুধবার রাতে কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের ফলাফল ঘোষণার পর রিয়াজুলের শক্ত অবস্থানের বিষয়টি সামনে আসে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলাম ৪ হাজার ৩১৯ ভোট পেয়েছেন, যেখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৫৩ ভোট। এই বিপুল ব্যবধান শিবির সমর্থিত প্যানেলের কর্মীদের মধ্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাসের যোগান দিয়েছে। গণনার চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত এই ধারা বজায় থাকবে বলে মনে করছেন প্যানেলের সমর্থকরা।

জিএসের বিশাল ব্যবধান

সহ-সাধারণ সম্পাদক বা জিএস পদের হিসাবও শিবিরের একক আধিপত্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পদে শিবিরের প্রার্থী আব্দুল আলীম আরিফ সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩৪৫ ভোট নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন মাত্র এক হাজার ৭৩৪ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের বিশাল পার্থক্য এখন ২ হাজার ৬১১টি, যা প্যানেলটির সামগ্রিক সাফল্যের বড় প্রমাণ।

এজিএস পদেও অগ্রগামী

সাধারণ সম্পাদক বা এজিএস পদেও জয়ের পথে রয়েছেন শিবির সমর্থিত প্রার্থী মাসুদ রানা। তিনি এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আতিকুর রহমান তানজিলের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন। তানজিল পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৭ ভোট, অর্থাৎ দুই প্রার্থীর ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৭৮৫ ভোটে। এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্রের ফলাফল গণনা বাকি থাকলেও শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ের বিষয়ে বেশ আশাবাদী।

ওএমআর মেশিনে জটিলতা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পূর্তিতে মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো জকসু ও নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। তবে ভোট গণনার সময় ওএমআর মেশিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনার জুলফিকার মাহমুদ জানিয়েছেন, ১৬ হাজার ৬৪৫ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নেতৃত্বের রূপরেখা স্পষ্ট হবে।

আরও পড়ুন