একুশের প্রথম প্রহরে জয়পুরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে জয়পুরহাটে যথাযথ মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সাথে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে একুশের প্রথম প্রহরেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অভিমুখে মানুষের ঢল নামে। তীব্র শীত উপেক্ষা করে হাজারো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ভাষার প্রতি বাঙালির ভালোবাসা আজও অমলিন।
মাতৃভাষার প্রতি সম্মান জানাতে প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। তার শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হয়। এরপর শ্রদ্ধা জানান জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির ফজলুর রহমান সাঈদ। এই সময় শহীদ মিনার চত্বরে এক ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য
প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া এবং পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা, যারা শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। রাজনৈতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের মধ্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা এবং প্রধান যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের শ্রদ্ধা জানানোর পর ভাষা শহীদদের স্মরণে একে একে অগ্রসর হয় বিভিন্ন স্তরের সংগঠন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিএনপি, জামায়াত এবং তাদের সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে ভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গকারীদের প্রতি সম্মান জানান, যা জয়পুরহাটে এক অনন্য ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
এছাড়াও শ্রমিক দল এবং জয়পুরহাট প্রেসক্লাবসহ স্থানীয় সকল সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। সর্বস্তরের সাধারণ জনগণও হাতে ফুল নিয়ে শহীদ মিনারে আসেন এবং নীরবতা পালন করে ভাষা আন্দোলনের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। দিবসটি উপলক্ষে প্রভাতফেরি ও আলোচনা সভাসহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।