জুলাই আন্দোলন ছিল জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম: চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জুলাই অভ্যুত্থানকে ঘিরে এক যুগান্তকারী মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, জুলাই আন্দোলন ছিল মূলত একটি জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম। এই সংগ্রামকে ছোট করে দেখা বা কোনোভাবে অবজ্ঞা করা রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শনের শামিল।
আইনি বৈধতা ও ট্রাইব্যুনালের অবস্থান
মঙ্গলবার ক্ষমতাচ্যুত সরকারের উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি চলাকালে তিনি এসব কথা বলেন। তাজুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, "বাংলাদেশের কোনো আদালতেই জুলাই অভ্যুত্থানকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না।" তিনি উল্লেখ করেন যে, জুলাই চার্টার ও জুলাই ঘোষণার মাধ্যমেই এটি একটি মুক্তি সংগ্রাম হিসেবে সারা বিশ্বে স্বীকৃত হয়েছে।
সন্ত্রাসবাদের তকমা প্রত্যাখ্যান
শুনানিতে বিবাদী পক্ষ যখন দাবি করেন যে জানমাল রক্ষায় জুলাই মাসে কারফিউ দেওয়া হয়েছিল, তখন চিফ প্রসিকিউটর তার তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, জনগণের এই মুক্তি সংগ্রামকে কোনোভাবেই সন্ত্রাসী আন্দোলন বলার সুযোগ নেই। "এটি ছিল ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণ-আন্দোলন,"—বলেন তিনি। এই আন্দোলনকে দমানোর জন্য দেওয়া কারফিউ ছিল মূলত একটি বর্বরোচিত পদক্ষেপ।
বিচারের অগ্রযাত্রা
জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচারের ক্ষেত্রে এই শুনানিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিফ প্রসিকিউটরের এই অনড় অবস্থান প্রমাণ করে যে, তৎকালীন ক্ষমতাশালীদের বিচারের ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না। জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রেখেই বিচারের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি আদালতকে আশ্বস্ত করেন। এই ঐতিহাসিক ট্রায়ালটি বাংলাদেশের বিচারবিভাগের জন্য একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।