জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের বিচার ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক এবং সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই চাঞ্চল্যকর মামলার প্রথম দিনে একজন আহত আন্দোলনকারীর জবানবন্দি প্রদানের মাধ্যমে বিচারিক অধ্যায়ের সূচনা হয়।
বিচারিক প্রক্রিয়ার নতুন অধ্যায় উন্মোচন
গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের জোরালো প্রারম্ভিক বক্তব্যের মাধ্যমে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় মোট ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। প্রথম দিনে আহত এক জুলাই যোদ্ধা আদালতে তাঁর ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনার যে বিবরণ তুলে ধরেছেন, তা মামলাটির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসিকিউশনের মূল অভিযোগ ও ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত
প্রসিকিউশন পক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, সালমান এফ রহমান এবং আনিসুল হক জুলাই আন্দোলন দমনের জন্য কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীতে ছাত্র ও সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ায় জনমনে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
একই দিনে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি
একই ট্রাইব্যুনালে আজ আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারিক কার্যক্রম নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে কল্যাণপুরের একটি 'জাহাজ বাড়ি'তে নয়জন তরুণকে জঙ্গি সাজিয়ে হত্যার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে চলমান মামলায় প্রসিকিউশন সাফাই সাক্ষীকে জেরা করেছে। বিচারের স্বার্থে সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক এবং হাসানুল হক ইনু—সবাইকেই ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।