সর্বশেষ
Loading breaking news...

ঢাকায় ফের বিষফোঁড়া কিশোর গ্যাং: ১২৭ চক্রের হাতে জিম্মি নগরজীবন!

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

রাজধানীর অলিগলিতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। শিশু হত্যা থেকে শুরু করে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর নৃশংস হামলা—সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নগরবাসীর মনে। লাগামহীন এই অপরাধচক্রকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) প্রতিটি থানাকে নতুন করে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। এই সমস্যাটি সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নগরজুড়ে আতঙ্ক: নেপথ্যে কারা?

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং ধর্ষণের মতো কয়েক হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে। এই সময়ে পাঁচ হাজারের বেশি সদস্যকে আটক করা হলেও তাদের দৌরাত্ম্য থামেনি। তথ্য বলছে, ২০২২ সালে দেশে ১৭৩টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় থাকলেও ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৭টিতে। এর মধ্যে শুধু ঢাকাতেই এখনো সক্রিয় রয়েছে ১২৭টি গ্যাং, যাদের মদতদাতা হিসেবে কাজ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ‘বড় ভাই’রা।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, যে বয়সে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার কথা, সেই বয়সে কিশোরদের একটি বড় অংশ গ্যাং সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়ছে। তারা ইভ টিজিং, চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। পারিবারিক অবহেলা এবং সুস্থ বিনোদনের অভাব এদের বিপথগামী করছে।

চাঁদার জন্য নৃশংসতা: আদাবর থেকে যাত্রাবাড়ী

কিশোর গ্যাংয়ের বর্বরতার সাম্প্রতিক উদাহরণ রাজধানীর আদাবরের একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় হামলা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদের চাঁদা দাবি করে কালা রাসেলের নেতৃত্বে একটি দল কারখানায় সশস্ত্র হামলা চালায়। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা কয়েকজন শ্রমিককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিকরা থানা ঘেরাও করলে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে।

শুধু চাঁদাবাজি নয়, খুনের মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে এই চক্রগুলো। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ীতে মাহিম মিয়া নামের এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। পুলিশি তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনেও স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে আইজিপি বাহারুল আলম সারা দেশের পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন