সর্বশেষ
Loading breaking news...

রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাঝেও কি শান্তির বার্তা? পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত মেটাতে বড় ঘোষণা কাবুলের

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

দীর্ঘদিন ধরে চলা সীমান্ত সংঘাত যখন যুদ্ধের চরম রূপ নিচ্ছে, ঠিক তখনই আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তাব দিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসন। পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বিমান হামলায় দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি এবং উভয় পক্ষের মধ্যে নজিরবিহীন উত্তেজনার মাঝেই কাবুলের এই নমনীয় মনোভাব বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে কাবুলের এই সংঘাত নিরসনের আগ্রহের কথা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

আকাশজুড়ে বারুদের গন্ধ ও ধ্বংসের রণক্ষেত্র

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহরে অতর্কিত ও ব্যাপক আকারে বিমান হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান বিমানবাহিনী। ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ নামের এই বিশেষ সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৭৪ জন তালেবান সদস্য ও সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। পাক বাহিনীর এই তাণ্ডবে আহত হয়েছেন আরও অন্তত চার শতাধিক মানুষ। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানই যুদ্ধের উসকানিদাতা। তবে পাকিস্তান যদি সংঘাত চালিয়ে যেতে চায়, তবে আফগানিস্তানও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। তাদের হাত শত্রুর গলা পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

রক্তক্ষয়ী সংঘাতের নেপথ্যে এক প্রতিশোধের ইতিহাস

এই ভয়াবহ সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল মূলত বৃহস্পতিবার রাত থেকে। খাইবার পাখতুনখোয়ায় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় আফগান বাহিনীর অতর্কিত হামলায় অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা প্রাণ হারান। তালেবানের দাবি, এটি ছিল ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানের চালানো বিমান অভিযানের একটি দাঁতভাঙা জবাব, যেখানে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে ডুরান্ড লাইন এলাকায় এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ স্পষ্ট করেছেন যে, আফগানিস্তান কেবল নিজের ভূখণ্ড রক্ষা ও আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে।

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিল মারপ্যাঁচ

তালেবান মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, আফগানিস্তান পাকিস্তান ও ভারতসহ সকল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে শান্তিপূর্ণ এবং পারস্পরিক মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ভারতের সাথে কাবুলের সুসম্পর্ক কোনোভাবেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নয়। এছাড়া তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যুটিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ সংকট কাবুলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক। বারংবার হামলা চালানো হলে আফগান বাহিনী প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে, তবে কাবুল সবসময়ই একটি শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চায়।

আরও পড়ুন