সর্বশেষ
Loading breaking news...

খুলনায় ধানের শীষের প্রার্থীতা নিয়ে তুমুল বিতর্ক, দুই নেতার পাল্টাপাল্টি দাবি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

আসন্ন নির্বাচনে খুলনার একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্র থেকে একজনকে চিঠি দেওয়া হলেও স্থানীয় আরেক প্রভাবশালী নেতা নিজেকে ধানের শীষের প্রকৃত প্রার্থী হিসেবে দাবি করছেন। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় এই বিভ্রান্তি প্রকাশ্যে আসে। দুই নেতাই তাদের হাতে থাকা দলীয় মনোনয়নপত্র বা 'চিঠি' প্রদর্শন করেন, যা উপস্থিত কর্মকর্তাদেরও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়।

 

 

দ্বিমুখী চিঠির রহস্য

 

 

 

জানা গেছে, দলের মহাসচিব স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক চিঠি দুই প্রার্থীর হাতে রয়েছে। এর মধ্যে একজন সাবেক এমপি এবং অন্যজন মহানগর বিএনপির বর্তমান সভাপতি। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, একই আসনে এবং একই প্রতীকে দুজনের নামে চিঠি থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি বিষয়টি সমাধানের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে নির্দেশনা চেয়েছেন। দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি।

 

 

 

কর্মীদের মধ্যে বিভক্তি ও সংঘর্ষ

 

 

 

নেতাদের এই দ্বন্দ্বে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আজ সকালে শহরের শিববাড়ি মোড়ে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে 'দালাল' ও 'বিদ্রোহী' আখ্যা দিয়ে স্লোগান দিচ্ছে, যা দলের নির্বাচনী প্রচারণায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

 

 

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

 

 

 

খুলনা বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক জানিয়েছেন, এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে অথবা যোগাযোগে বিভ্রাট। দলের হাইকমান্ড বিষয়টি অবগত আছে এবং দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তিনি নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার এবং দলীয় শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান। চূড়ান্ত তালিকায় যার নাম আসবে, তার পক্ষেই সবাইকে কাজ করতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

 

 

 

সাধারণ ভোটারদের প্রতিক্রিয়া

 

 

 

দলের ভেতরের এই কোন্দল দেখে সাধারণ ভোটাররা হতাশ। তারা বলছেন, নির্বাচনের আগেই যদি প্রার্থীরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে, তবে নির্বাচিত হলে তারা এলাকার শান্তি কীভাবে বজায় রাখবে? সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, বড় দলগুলোর উচিত প্রার্থী মনোনয়নে আরও স্বচ্ছতা ও সতর্কতা অবলম্বন করা। এই অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন না হলে বিরোধী জোটের ভোট ব্যাংকে ধস নামতে পারে।

 

আরও পড়ুন