রাতের আঁধারে কাস্পিয়ান সাগরে বিধ্বংসী হামলা চালিয়ে রাশিয়ার জ্বালানি সাম্রাজ্যে কাঁপন ধরাল কিয়েভ
কাস্পিয়ান সাগরের বুকে রাশিয়ার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ তেল উত্তোলন স্থাপনায় দুঃসাহসিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রবিবার রাতের অন্ধকারে পরিচালিত এই অভিযানের পাশাপাশি রাশিয়ার ভোরোনেজ শহরেও চালানো হয় পৃথক ড্রোন হামলা। এই ঘটনায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো এবং যুদ্ধ সক্ষমতার ওপর কিয়েভের ক্রমবর্ধমান চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্ধকার চিরে অগ্নিগর্ভ কাস্পিয়ান
ইউক্রেনের স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সেস (এসএসও) এই হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যা ঘটনার ভয়াবহতার ইঙ্গিত দেয়। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনটি বিস্ফোরক ভর্তি ড্রোন রাতের আঁধারে কাস্পিয়ান সাগরের ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তেল কোম্পানি ‘লুকইল’-এর মালিকানাধীন তিনটি ড্রিলিং প্ল্যাটফর্মে সরাসরি আঘাত হানে। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভি. ফিলানোভস্কি, ইউরি কোরচাগিন এবং ভ্যালেরি গ্রাইফার নামের তেল রিগগুলোতে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে, তবে এই হামলায় ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনও যাচাই করা হচ্ছে।
কেন এই দুঃসাহসিক অভিযান
কিয়েভের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, কাস্পিয়ান সাগরের এই তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনায় সরাসরি সহায়তা করছিল। এ কারণেই এগুলোকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করে হামলা চালানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, রাশিয়ার যুদ্ধ সক্ষমতা দুর্বল করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই ইউক্রেন সম্প্রতি দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা জোরদার করেছে, যা রাশিয়ার অর্থনীতির মেরুদণ্ডে আঘাত হানার শামিল।
আঘাতের পর পাল্টা আঘাত
ইউক্রেনের এই হামলার ঠিক আগেই রাশিয়া ইউক্রেন জুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলায় কিয়েভের বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে তীব্র শীতের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন ও উষ্ণতাহীন হয়ে পড়েন। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় কিয়েভের মেয়র বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে রাজধানী ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ পর্যন্ত দিয়েছিলেন, যা যুদ্ধের ভয়াবহতা ও মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র ফুটিয়ে তোলে।
ভোরোনেজে প্রাণহানি ও সতর্কতা
অন্যদিকে, ভোরোনেজ অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সান্ডার গুসেভ জানিয়েছেন, শহরের আকাশে একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হলেও হামলায় একজন নারী নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তিনি জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকার পরও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে এবং নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে, কারণ যুদ্ধের এই নতুন ফ্রন্ট সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।