সর্বশেষ
Loading breaking news...

কিম জং উনের কন্যার হাতে রাইফেল: উত্তর কোরিয়ায় উত্তরসূরি নিয়ে নতুন জল্পনা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সম্প্রতি একটি বিরল ছবি প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের কিশোরী কন্যা জু আয়ে রাইফেল হাতে লক্ষ্যভেদ করছেন। এই ছবি প্রকাশের পরপরই কিম পরিবারের পরবর্তী উত্তরসূরি হিসেবে তাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা-কল্পনা নতুন করে ডালপালা মেলেছে।

ক্ষমতার কেন্দ্রে জু আয়ে: রহস্যময় উপস্থিতি

সিউল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জু আয়েকে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য পরবর্তী শাসক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে চলতি সপ্তাহের একটি সামরিক কুচকাওয়াজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এটি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পার্টি কংগ্রেসের সমাপনী অনুষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়। কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, জু আয়ে একটি শুটিং রেঞ্জে রাইফেল হাতে লক্ষ্য স্থির করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, জু আয়েকে প্রায়শই বড় রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তার বাবার সাথে একই ধরনের পোশাকে দেখা যায়, যা কর্তৃত্ব ও বৈধতার প্রতীক। চামড়ার জ্যাকেট পরিহিত কিশোরী জু আয়ের ট্রিগারে আঙুল রাখা এবং রাইফেলের মুখ থেকে ধোঁয়া নির্গত হওয়ার ছবি এটিই প্রমাণ করে যে তাকে কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই প্রচারণার মাধ্যমে তাকে দেশের ভবিষ্যৎ কান্ডারি হিসেবে জনগণের কাছে পরিচিত করানো হচ্ছে।

কিমের মৌন বার্তা ও গোয়েন্দা রিপোর্ট

কিম জং উন সম্প্রতি শীর্ষ কর্মকর্তাদের নতুন স্নাইপার রাইফেল উপহার দিয়েছেন এবং এটিকে 'পূর্ণ আস্থার' প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যদিও তিনি জু আয়ের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি, তবে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে যে পিয়ংইয়ং ইতোমধ্যেই জু আয়েকে উত্তরসূরি মনোনীত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ছবিতে তাকে অস্ত্র চালাতে দেখা যাওয়া সেই প্রক্রিয়ারই একটি শক্তিশালী চাক্ষুষ প্রমাণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

কিম পরিবার কয়েক দশক ধরে উত্তর কোরিয়াকে 'পেকতু রক্তধারা' ধারণার ভিত্তিতে শাসন করছে। কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বর্তমানে পার্টির গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ পরিচালনা করলেও জু আয়ের উত্থান ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্নে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাষ্ট্রীয় প্রচারণা ও ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতির কারণে দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনেও এই নতুন নেতৃত্বের বার্তা গভীর প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন