রান্নাঘরের সাধারণ উপাদানেই বন্ধ হবে চুল পড়া আর ফিরে আসবে নতুন চুল
চুলের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় প্রাকৃতিক উপাদানের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। আপনার হাতের মুঠোয় থাকা সাধারণ কিছু উপাদানেই মিলতে পারে চুলের জাদুকরী সমাধান। সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন নারকেল, আমলকি বা ক্যাস্টর অয়েল হালকা গরম করে মাথার ত্বকে মালিশ করুন। এটি কেবল রক্ত সঞ্চালনই বাড়ায় না, বরং চুলের গোড়াকে করে তোলে অনেক বেশি মজবুত। নিয়মিত এই তেলের মালিশ আপনার চুলের হারানো জেল্লা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
পেঁয়াজের রসের জাদুকরী প্রভাব
চুল পড়া কমাতে পেঁয়াজের রস এক অব্যর্থ উপাদান হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে পরিচিত। পেঁয়াজ থেকে রস বের করে মাথার ত্বকে লাগিয়ে অন্তত মিনিট ত্রিশেক অপেক্ষা করতে হবে। এরপর একটি হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেললে বিস্ময়কর ফলাফল লক্ষ্য করা যায়। পাশাপাশি, "অ্যালোভেরা জেল" ব্যবহার করলে খুশকির সমস্যা দূর হয় এবং চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। নিয়মিত এই প্রাকৃতিক চর্চা আপনার চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধিতে বিশেষ সহায়তা করবে।
ভেতর থেকে পুষ্টির জোগান
চুলের বাইরের যত্নের পাশাপাশি ভেতর থেকে পুষ্টি জোগান দেওয়া অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, আয়রন এবং ভিটামিন বি ও ই সমৃদ্ধ খাবার অবশ্যই রাখা উচিত। ডিম, ডাল, সবুজ শাকসবজি, বাদাম ও বিভিন্ন ফলমূল চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করাও চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস আপনার চুলের গোড়া মজবুত করতে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে কাজ করবে।
ডিম ও দইয়ের মাস্ক
চুলের শক্তি ও মসৃণতা বাড়াতে ডিম ও দইয়ের হেয়ার মাস্ক দারুণ কার্যকর একটি ঘরোয়া পদ্ধতি। একটি ডিমের সঙ্গে দুই টেবিল চামচ দই মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে আধঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্ক ব্যবহারের ফলে চুল হয় আগের চেয়ে অনেক বেশি মসৃণ ও শক্তিশালী। প্রাকৃতিক এই প্রোটিন ট্রিটমেন্ট রাসায়নিক প্রসাধনীর চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ ও সাশ্রয়ী। সপ্তাহে অন্তত একদিন এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে চুলের গঠনগত পরিবর্তন আপনার চোখে পড়বে।
অভ্যাস বদল ও সতর্কতা
সর্বোপরি, মানসিক চাপকে জীবন থেকে দূরে রাখা চুল পড়া রোধে অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম, হালকা ব্যায়াম এবং মেডিটেশন আপনার শরীর ও মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করবে। অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার এবং ঘন ঘন হেয়ার স্টাইলিং করার অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত। ভেজা চুল আঁচড়ানোর মতো ভুল অভ্যাসগুলো চুলের মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। যদি সমস্যা খুব বেশি গুরুতর হয়, তবে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।