খুবিতে যৌন নিপীড়নে অধ্যাপক রুবেল আনসার ২ বছরের জন্য দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক এক আদেশে তাকে আগামী দুই বছরের জন্য সব ধরনের পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণ এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক অফিস আদেশ জারি করা হয় যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
সিন্ডিকেটের কঠোর সিদ্ধান্ত
জানা গেছে, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ২৩৪তম সভায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষা ডিসিপ্লিনের এক শিক্ষার্থীর আনা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অধ্যাপক রুবেল আনসারকে এই শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। আদেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, পরবর্তী দুই বছর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বা প্রশাসনিক কাজের সাথে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারবেন না।
অভিযোগের নেপথ্য কাহিনি
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন বাংলা ও শিক্ষা ডিসিপ্লিনের দুই শিক্ষার্থী ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র’ সাত সদস্যের একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করে। দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গত ২৬ ডিসেম্বর কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
তদন্তে নাটকীয় মোড়
তবে তদন্তে একটি বিষ্ময়কর মোড় আসে দুই শিক্ষার্থীর অভিযোগের ফয়সালা নিয়ে। শিক্ষা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীর অভিযোগ প্রমাণিত হলেও, বাংলা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীর আনা অন্য একটি অভিযোগ থেকে অভিযুক্ত অধ্যাপককে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফলে সিন্ডিকেটের ১৫ ও ১৬ নম্বর সিদ্ধান্তের আলোকে দুই ধরনের আদেশ কার্যকর হয় যা ক্যাম্পাসে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভুক্তভোগীর অসন্তোষ ও দাবি
তদন্তের এই ফলাফল নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বাংলা ডিসিপ্লিনের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অসন্তোষ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমি কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পাননি বলে মনে করি।” তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তিনি আর আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেননি। অন্যদিকে, তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের প্রধান তাসলিমা খাতুন দাবি করেছেন যে, তদন্ত অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে করা হয়েছে।