কুলাউড়ায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি ও ১ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ৪
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় গভীর রাতে এক দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই চারজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে নজির স্থাপন করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতে সংঘটিত এই অভিযানে ডাকাতদের হামলায় হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। ঘটনাস্থল থেকে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র এবং ডাকাত দলের ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।
মধ্যরাতে দুর্ধর্ষ হানা
ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর এলাকার বাগানবাড়ি পাকা সড়কে। স্থানীয় বাসিন্দা লাল মিয়া (৪২) মোটরসাইকেল যোগে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে পাঁচজনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল তার গতিরোধ করে। দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ডাকাতরা লাল মিয়ার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ এবং তার শখের মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয়। লুণ্ঠন কাজ শেষ করেই ডাকাত দলটি একটি মাইক্রোবাসে চড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পুলিশের পাল্টা আঘাত
ডাকাতির খবর পাওয়া মাত্রই কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আজমল হোসেন এবং ওসি মনিরুজ্জামান মোল্যার নেতৃত্বে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও দ্রুত ধাওয়া করে পার্শ্ববর্তী চুনঘর এলাকায় রাত ৩টার দিকে সফল অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতদের কোণঠাসা করা হয়। এ সময় ডাকাতরা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমল হোসেন হাতে আঘাত পান, তবে সাহসিকতার সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা চারজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটকদের পরিচয় ও উদ্ধার
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— জাকির হোসেন (৩২), মো. নাজিম মিয়া (২৫), মো. দেলোয়ার হোসেন (২৯) ও জুবের আহমদ জুবলা (৩০), যারা সকলেই কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ তাদের হেফাজত থেকে লুণ্ঠিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে এবং অপরাধে ব্যবহৃত ধারালো দেশীয় অস্ত্র ও মাইক্রোবাসটি জব্দ করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
মামলার কার্যক্রম
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মোল্যা নিশ্চিত করেছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে মঙ্গলবার সকালে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, "পালিয়ে যাওয়া অপর ডাকাত সদস্যকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।" জননিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ প্রশাসন সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে বলে তিনি জানান।