সর্বশেষ
Loading breaking news...

মামলা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি: কুষ্টিয়ায় জোড়া খুনের মামলার সাক্ষী কুপিয়ে জখম

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় একটি চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী আসমত গাইনকে (৫৫) মামলা তুলে নিতে অস্বীকার করায় কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ছাতারপাড়া গ্রামে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

হামলার নেপথ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর ছাতারপাড়া বাজারে সংঘটিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড, যেখানে দুই ভাই হামিদুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম খুন হন। আসমত গাইন সেই ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী এবং মামলার প্রধান সাক্ষী। অভিযোগ উঠেছে যে, স্থানীয় পিয়াদা বংশের লোকজন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে গাইন বংশের ওপর এই মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল।

ইফতারের আগে নৃশংস হামলা: যেভাবে সংঘটিত হলো

আহত আসমত গাইনের স্বজনরা জানান, শনিবার ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে সশস্ত্র একদল দুর্বৃত্ত তাদের বাড়িতে হানা দেয়। হামলাকারীরা ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আসমতকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যরাও লাঞ্ছিত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল সাক্ষীকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া যাতে খুনের মামলাটি বিচারহীনতার দিকে চলে যায়।

এই ঘটনার পর পুরো ছাতারপাড়া এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন। তারা মনে করেন, যদি একজন সাক্ষীর ওপর এভাবে হামলা চালানো হয়, তবে সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি নতুন অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, খবর পাওয়ার পরপরই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জোড়া খুনের মামলার জেরে এই হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন