বার্সেলোনা নির্বাচনে লাপোর্তার মাস্টারস্ট্রোক: বাইরের তারকা নয়, ভরসা এখন ঘরের শক্তিতেই
আসন্ন ১৫ মার্চের বার্সেলোনা ক্লাব সভাপতি নির্বাচনকে ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে কাতালান শিবিরে। প্রার্থীরা যখন বড় বড় তারকা কেনার চোখধাঁধানো প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটছেন সাবেক সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা। সমর্থকদের আকাশচুম্বী গ্ল্যামারাস প্রত্যাশাকে বাস্তবের জমিনে নামিয়ে এনে তিনি জানালেন, নতুন কোনো মহাতারকা সাইনিং নয়, বরং ক্লাবের বর্তমান তরুণ ব্রিগেডের ওপরই তিনি পূর্ণ আস্থা রাখছেন। দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য বাইরের শক্তির চেয়ে ঘরের সন্তানদের ওপর বাজি ধরতেই তিনি বেশি আগ্রহী।
গ্যালাকটিকো স্বপ্নের অবসান
স্প্যানিশ দৈনিক ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের এই নতুন দর্শনের কথা সবিস্তারে তুলে ধরেন লাপোর্তা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ক্লাবের অর্থনৈতিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলেও আগামী গ্রীষ্মকালীন দলবদলে আকাশছোঁয়া দামে কোনো বড় ফুটবলার কেনার পরিকল্পনা তার নেই। লাপোর্তার মতে, বাইরের কোনো নামী তারকার পেছনে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ না করে বর্তমান খেলোয়াড়দের ধরে রাখাই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ। বর্তমান স্কোয়াডকে একটি চমৎকার ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে অভিহিত করে তিনি জানান, স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকোর পরামর্শ অনুযায়ী অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে দলের সংহতি নষ্ট করতে তারা নারাজ।
লাপোর্তার রণকৌশল অনুযায়ী, বর্তমানে দলে রবার্ট লেভানডফস্কি এবং ফেরান তোরেসের মতো অভিজ্ঞ ও দক্ষ ফরোয়ার্ড রয়েছেন। পাশাপাশি দানি ওলমো, মার্কাস র্যাশফোর্ড কিংবা ইয়ামালের মতো ফুটবলাররাও আক্রমণভাগকে যেকোনো পজিশনে শক্তিশালী করতে সক্ষম। ক্লাব সভাপতির ভাষ্যমতে, ডেকো যদি মনে করেন কোনো বিশেষ সুযোগ দলের মানকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে, কেবল তবেই তারা নতুন কারও আগমনের ব্যাপারে চিন্তা করবেন।
বিস্ময় বালক ইয়ামালকে ঘিরে ২০৩০-এর মহাপরিকল্পনা
লাপোর্তার এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লা মাসিয়ার বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল। লা লিগার সাম্প্রতিক ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা এই তরুণ তুর্কিকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লাপোর্তা বলেন, “প্রতিদিন সে তার অভাবনীয় সৃজনশীলতা দিয়ে আমাদের মুগ্ধ করছে। আতলেতিকোর বিপক্ষে সেই জাদুকরী অ্যাসিস্ট কিংবা ভিয়ারিয়ালের জালে নান্দনিক গোল—সবই তার অসামান্য প্রতিভার স্বাক্ষর।” তাকে ক্লাবের এক অমূল্য ‘মানবিক সম্পদ’ এবং ঘরের ছেলে হিসেবে অভিহিত করে তিনি জানান, তরুণদের এই পরিপক্বতা ক্লাবকে এক নতুন যুগে নিয়ে যাবে।
ক্লাবের ভবিষ্যৎ ভিত মজবুত করতে ডেকোর দূরদর্শী পরিকল্পনার কথাও উঠে আসে এই সাক্ষাৎকারে। লাপোর্তা জানান, একঝাঁক তরুণ প্রতিভার ভবিষ্যৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত ন্যু ক্যাম্পেই নিশ্চিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে লাপোর্তার এই ‘তারকাবিহীন টেকসই মডেল’ ক্লাব সদস্যরা কতটা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন, এখন সেটিই ফুটবল বিশ্বের নজরে রয়েছে।