অপরাধীদের রাজনৈতিক ছাতা আর থাকছে না, দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলার হুঁশিয়ারি আইনমন্ত্রীর
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা তাদের আশ্রয়দাতাদের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের দরজা চিরতরে বন্ধ। অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের কঠোরতম প্রয়োগের মুখোমুখি হতে হবে। শনিবার ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
কমিশন বাণিজ্যে জিরো টলারেন্স: হিসাব হবে কড়ায়-গণ্ডায়
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করেছে। জনগণের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, উন্নয়নমূলক কাজের গুণমানের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আপস করা হবে না। কোনো ঠিকাদার বা কর্মকর্তা যদি এক পয়সা কমিশন নেন কিংবা নির্মাণ কাজে অনিয়ম করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।
চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোকপাত করে মন্ত্রী জানান, নরসিংদীর ধর্ষণ মামলা এবং ঝিনাইদহের শিশু তাবাসসুম হত্যা মামলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, অপরাধীদের যারা আশ্রয় দেবে, তাদের শেকড় উপড়ে ফেলা হবে। এছাড়া, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের অবমাননা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। সেই সময়ে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা হবে।
সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মন্ত্রী আরও জানান যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামী সংসদ অধিবেশনেই বিল আকারে পেশ করা হবে। ঝিনাইদহে চাঁদাবাজি, হুমকি-ধমকি ও রাজনৈতিক দলাদলি নির্মূলে সরকার ও বিরোধী দল একযোগে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন যে, জনগণের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো প্রভাবশালী মহলের রক্তচক্ষু সহ্য করা হবে না।