ইরানে হামলা চালালেই ফিরবে শান্তি, ট্রাম্পকে লিন্ডসে গ্রাহামের চরমপন্থী পরামর্শ
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন রিপাবলিকান পার্টির প্রভাবশালী সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এক বিস্ফোরক আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইরানের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গ্রাহামের মতে, এই সাহসী পদক্ষেপ ইরানে চলমান গণবিক্ষোভকে আরও শক্তিশালী করবে এবং শাসকগোষ্ঠীর ভিত নাড়িয়ে দেবে।
শাসকগোষ্ঠীর বুকে কাঁপন ধরানোর ছক
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম তাঁর পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যেকোনো পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বিক্ষোভকারীদের সাহস জোগানো এবং শাসকগোষ্ঠীর মনে ভয় সৃষ্টি করা।” প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি সরাসরি বলেন, “মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি আপনার জায়গায় থাকলে, যারা সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে, সেই নেতৃত্বকেই নিশানা করতাম। এই হত্যাকাণ্ড অবশ্যই থামাতে হবে।”
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন দিনের হাতছানি?
এই সামরিক পদক্ষেপের সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও দাবি করেন এই রিপাবলিকান সিনেটর। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, “যদি এর ফল ভালো হয়, তবে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।” তাঁর মতে, এর ফলে রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের অবসান ঘটবে এবং হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো সংগঠনগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে।
গ্রাহাম আরও যোগ করেন যে, এই পরিস্থিতি ইসরায়েল এবং সৌদি আরবের মধ্যে শান্তি স্থাপনের পথ প্রশস্ত করবে, যা মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন যুগের সূচনা করবে। তিনি মনে করেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়াই হলো এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অস্থিরতা নিরসনের মূল চাবিকাঠি। সিনেটরের এই মন্তব্য ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে এবং এর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ।
সমর্থকরা মনে করছেন ইরানের প্রভাব কমাতে কঠোর অবস্থানের বিকল্প নেই, তবে সমালোচকরা সতর্ক করে বলছেন যে নেতৃত্বের ওপর সরাসরি হামলা বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পারদ যখন উর্ধ্বমুখী, তখন সিনেটের অন্যতম প্রধান মিত্রের এই আগ্রাসী পরামর্শে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কী প্রতিক্রিয়া দেখান, সেদিকেই এখন সবার নজর।