সর্বশেষ
Loading breaking news...

মাদারীপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র: অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১০

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নে তুচ্ছ কথা-কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বালিয়া নওহাটা এলাকায় দুই পক্ষের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নেপথ্যের তুচ্ছ বিবাদ যেভাবে রক্তক্ষয়ী রূপ নিলো

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় নাসির হাওলাদারের স্ত্রী রুনি বেগমের সাথে প্রতিবেশী আইয়ুব আলী মাতুব্বরের মেয়ে সুমাইয়ার সামান্য কথা-কাটাকাটি থেকে। সাধারণ এই বিবাদ দ্রুতই হাতাহাতিতে রূপ নেয়। মুহূর্তের মধ্যেই খবরটি উভয় পক্ষের স্বজন ও সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এরপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে এবং শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।

বিস্ফোরণের মুহুর্মুহু শব্দ আর আতঙ্কিত জনপদ

সংঘর্ষ চলাকালে বালিয়া নওহাটা এলাকা মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যার ফলে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই সহিংসতায় নাসির হাওলাদার, তার স্ত্রী রুনি বেগম, আইয়ুব আলী মাতুব্বরের মেয়ে সুমাইয়া এবং এক ভ্যানচালকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

সহিংসতার খবর পেয়ে পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কড়া নজরদারি রাখছে। পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কোনো পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ তৎপর রয়েছে। অপরাধীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এলাকায় পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন