সর্বশেষ
Loading breaking news...

দ্রুত বিচার আইনের বেড়াজালে অধ্যক্ষসহ ১৭ জন, জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

সিলেটের বিশ্বনাথ দারুল উলুম ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা নুমান আহমদসহ ১৭ জন অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনে দায়ের করা মামলায় তাঁরা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেছিলেন। তবে শুনানি শেষে আদালত তাঁদের আবেদন সরাসরি নাকচ করে দেন এবং সোজা কারাগারে পাঠানোর কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল খালিক আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পটভূমি ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি

এই ঘটনাপ্রবাহের মূল সূত্রপাত ঘটে গত জুলাই মাসের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় থেকে। ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের’ পতনের পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুমান আহমদের বিরুদ্ধে নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রবল আকার ধারণ করে। শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে তিনি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। কিন্তু পদত্যাগের পরেও তিনি ও তাঁর অনুসারীরা প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে, যার রেশ গড়ায় আদালত পর্যন্ত।

সংঘর্ষের নেপথ্যে জোরপূর্বক প্রবেশ

গত বছরের ১৭ অক্টোবর সকালে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে, যখন পদত্যাগী অধ্যক্ষ এবং তাঁর অনুসারীরা জোরপূর্বক মাদরাসা ক্যাম্পাসে প্রবেশের অপচেষ্টা চালান। এই হঠকারী সিদ্ধান্ত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের জন্ম দেয় এবং ক্যাম্পাসের শান্ত পরিবেশ মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই গুরুতর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনের পক্ষে থাকা রিমন আহমদ বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে ১০৫/২০২৪ নম্বর মামলাটি দায়ের করেন।

পরোয়ানা ও আদালতের কঠোর অবস্থান

মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তরা আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে ছিলেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর অবশেষে অভিযুক্তরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আজ আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে অপরাধের মাত্রা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আদালত কোনো প্রকার ছাড় না দিয়ে তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

আইনের শাসনে স্বস্তির বার্তা

আদালতের এই কঠোর অবস্থান এলাকায় চালচঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের পেশিশক্তির মহড়া রোধে এই রায় একটি শক্তিশালী বার্তা। দুর্নীতির অভিযোগ ও পরবর্তীতে জোরপূর্বক ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টার মতো ঘটনাগুলো যে আইনের দৃষ্টিতে হালকাভাবে দেখা হচ্ছে না, আদালতের এই আদেশের মাধ্যমে তা সুস্পষ্ট হয়েছে।

আরও পড়ুন