সর্বশেষ
Loading breaking news...

মাগুরায় প্রবাসী হত্যায় ২ লাখ টাকার রহস্য, গণপিটুনি নাকি পরিকল্পিত খুন

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মাগুরা সদর উপজেলায় এক প্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজাল। নিহত ব্যক্তির নাম আকিদুল ইসলাম। পুলিশের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতের পরিবার এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে একে একটি ঠান্ডা মাথার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে এবং দাবিকৃত দুই লাখ টাকা চাঁদা না পেয়েই তাকে হত্যা করে চুরির নাটক সাজানো হয়েছে।

চাঁদা দাবির ফোনকল ও পরিবারের অভিযোগ

নিহতের ছেলে সাইমন জানান, তার বাবা ঢাকা থেকে ব্যবসায়িক কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। ভোরে ইছাখাদা বাজারে নামতেই আগে থেকে ওত পেতে থাকা গ্রামেরই মিলন, সত্তার, মনিরুল ও রশিদসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে। সাইমনের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা তার বাবাকে ‘চোর’ অপবাদ দিয়ে মারধর শুরু করে এবং একপর্যায়ে ‘আকিদুলের ফোন ব্যবহার করেই বাড়িতে কল দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।’

পরিবারের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড নিছক কোনো দুর্ঘটনা বা গণপিটুনি নয়। বরং পূর্বশত্রুতার জেরে এবং টাকা না দেওয়ায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্তরা ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ‘চোর সন্দেহে গণপিটুনি’র নাটক সাজিয়েছে বলে অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশের বয়ান ও তদন্তের আশ্বাস

অন্যদিকে, মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, মালন্দ গ্রামে গরু চুরি করে পালানোর সময় স্থানীয় জনতা আকিদুলকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে ইছাখাদা এলাকায় তাকে ধরে ফেলে গণপিটুনি দেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ঘটনাটি ঘিরে গভীর রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং বিস্তারিত তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে। এ ঘটনায় সত্য উন্মোচনে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন