দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বাগেরহাটের তিন আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন এমএএইচ সেলিম
বাগেরহাটের প্রভাবশালী বিএনপি নেতা এমএএইচ সেলিম (সিলভার সেলিম) দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বাগেরহাট-১, ২ ও ৩—এই তিনটি আসন থেকেই লড়বেন বলে তার প্রতিনিধিরা নিশ্চিত করেছেন। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) দুপুরে তার পক্ষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্রোহী হওয়ার কারণ
এমএএইচ সেলিমের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করলেও কেন্দ্র থেকে তাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে তার নিজ এলাকায় জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও অন্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ। সংবাদ সম্মেলনে তার এক মুখপাত্র বলেন, "জনগণের ভালোবাসার চাপেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে বাধ্য হয়েছেন। দলের দুর্দিনে যারা পাশে ছিল না, তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা তৃণমূল মেনে নেয়নি।"
ভোটের সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তিনটি আসনে সেলিমের প্রার্থিতা বিএনপির দলীয় প্রার্থীদের বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। তার নিজস্ব ভোট ব্যাংক এবং আর্থিক সক্ষমতা তাকে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে। এতে করে বিরোধী ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরোক্ষভাবে সরকারি দলের প্রার্থীদের সুবিধা করে দিতে পারে।
দলের কঠোর বার্তা
এদিকে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে বিএনপি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, যারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করবে, তাদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে। তবে সেলিম এসব হুমকিকে তোয়াক্কা করছেন না। তিনি বলছেন, "দল আমাকে বহিষ্কার করলেও আমি জনগণের হৃদয়ে আছি। আমি নির্বাচনে জিতে প্রমাণ করব সঠিক সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিল।"
প্রচারণার প্রস্তুতি
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরপরই সেলিমের সমর্থকরা তিনটি আসনেই প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। নির্বাচনী পোস্টার ও লিফলেট ছাপানোর কাজ পুরোদমে চলছে। বাগেরহাটের রাজনীতিতে 'সিলভার সেলিম' ফ্যাক্টর যে এবার বড় প্রভাব ফেলবে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।