শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেফতার
শরীয়তপুরে ঢাকাগামী একটি রোগীবহনকারী অ্যাম্বুলেন্স দুই দফা আটকে রাখার ফলে চিকিৎসার অভাবে এক বৃদ্ধ রোগীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। নিহত জমশেদ আলী ঢালীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথিমধ্যে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পালং মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ঘটনার মূল হোতা সুমন খানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার নেপথ্য ও আটক
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায় যে বুধবার রাতে নিহতের নাতি জোবায়ের হোসেন রোমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে চারজনের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরপরই পুলিশ আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর বলে জানানো হয়েছে।
আসামিদের বিস্তারিত পরিচয়
এই মামলায় অভিযুক্তরা হলেন সদর উপজেলার কাচারি কান্দি এলাকার সুলতান খানের ছেলে সুমন খান এবং চন্দ্রপুর এলাকার সজীব। তালিকায় আরও নাম রয়েছে চিকন্দী এলাকার হান্নান এবং নড়িয়া উপজেলার পারভেজের। মামলার প্রধান আসামি সুমন খানকে গ্রেফতার করা হলেও বাকিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পুলিশ নিখোঁজ আসামিদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। স্থানীয় প্রশাসন এই ঘৃণ্য অপরাধে জড়িত কাউকেই ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
অবহেলা ও করুণ পরিণতি
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে যে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জমশেদ আলীকে শরীয়তপুর থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে অভিযুক্তরা অ্যাম্বুলেন্সটি দুই দফায় গতিরোধ করে। অহেতুক দীর্ঘ সময় গাড়িটি আটকে রাখায় রোগী সময়মতো চিকিৎসা পেতে ব্যর্থ হন। অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই ছটফট করতে করতে পথেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। জীবন বাঁচাতে অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি যানবাহনে বাধা দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।
পুলিশের বর্তমান তৎপরতা
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানিয়েছেন যে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার মতো অমানবিক ঘটনায় মামলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, "প্রধান আসামিকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।" অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনগত সব ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।