বগুড়ায় মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল, আপিলের প্রস্তুতি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) সকালে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এই ঘোষণা দেন। ঋণ খেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়নপত্রটি অবৈধ ঘোষণা করা হয় বলে জানা গেছে। তবে মান্নার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এটি একটি ষড়যন্ত্রমূলক সিদ্ধান্ত।
বাতিলের কারণ ও প্রতিক্রিয়া
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্ট অনুযায়ী মাহমুদুর রহমান মান্নার নামে একটি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ রয়েছে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো ঋণ খেলাপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। তবে মান্না উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, "আমি নির্ধারিত সময়ের আগেই ঋণের বিষয়টি সুরাহা করেছি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে সিআইবি আপডেট হয়নি। এটি আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার একটি কৌশল।"
আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা
মনোনয়নপত্র বাতিলের পরপরই মাহমুদুর রহমান মান্না ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করবেন। তিনি বলেন, "ন্যায়বিচার পাওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। আমার কাছে ঋণ পরিশোধের সমস্ত নথিপত্র আছে। ইসিতে আপিল করে আমি আমার প্রার্থিতা ফিরে পাব ইনশাআল্লাহ।" তার আইনজীবীরা ইতোমধ্যে আপিল করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করছেন।
সমর্থকদের বিক্ষোভ
প্রিয় নেতার মনোনয়নপত্র বাতিলের খবরে শিবগঞ্জে মান্নার সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। তারা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। সমর্থকদের দাবি, মান্নাকে ভয় পেয়ে সরকারি দলের ইশারায় তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত
বগুড়া-২ আসনটি রাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাহমুদুর রহমান মান্না এই আসনের একজন হেভিওয়েট প্রার্থী। তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় নির্বাচনের সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি আপিলে তার প্রার্থিতা ফিরে আসে, তবে এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। আর যদি তিনি বাদ পড়েন, তবে তা বিরোধী জোটের জন্য বড় ধাক্কা হবে।