সর্বশেষ
Loading breaking news...

কর্ণফুলীর তীরে স্মৃতি-স্বপ্নের মেলবন্ধন, ভবিষ্যতের নৌপথ গড়ার নতুন শপথ নিলেন মেরিনাররা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার জলদিয়ায় বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির সবুজ ক্যাম্পাস এক ভিন্নধর্মী উৎসবে মেতে উঠেছিল। দেশের নৌ খাতের দিকপাল, প্রবীণ ও নবীন নাবিকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে এই বিদ্যাপীঠ। বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই মিলনমেলায় শোভাযাত্রা, স্মৃতিচারণ আর অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। এই আয়োজন দেশের নৌপথের কারিগরদের এক বিশাল সম্মিলনে পরিণত হয়।

যখন স্মৃতিরা কথা বলে

দীর্ঘদিন পর প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে সতীর্থ এবং জ্যেষ্ঠ-কনিষ্ঠদের পেয়ে অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রাক্তন ক্যাডেটদের সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যরাও যোগ দেওয়ায় এই আয়োজন এক পারিবারিক সম্মিলনে রূপ নেয়, যা অনুষ্ঠানে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। আড্ডায়, গল্পে তারা ফিরে যান সোনালী অতীতে, ভাগ করে নেন সমুদ্রযাত্রার রোমাঞ্চকর সব অভিজ্ঞতা। পুরোনো দিনের আলাপচারিতা আর হাসির রোলে চারপাশের পরিবেশ হয়ে ওঠে নস্টালজিক ও প্রাণবন্ত।

সমুদ্রজয়ের নতুন শপথ

আলোচনা পর্বে বক্তারা দেশের নৌ বাণিজ্যের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম সোহরাওয়ার্দী বলেন, দক্ষ নাবিক তৈরিতে এই একাডেমির অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন, "বিশ্ব নৌ অঙ্গনে বাংলাদেশের ভিত আরও মজবুত করতে প্রাক্তনদেরই এগিয়ে আসতে হবে এবং যেকোনো নাবিকের দুঃসময়ে ঢাল হয়ে দাঁড়াতে হবে।" সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানও নতুন ক্যাডেটদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরিতে প্রবীণদের গুরুদায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

সম্মাননা ও আগামীর দিশা

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম এমপ্লয়ার্স কাউন্সিলের (আইমেক) সাবেক চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন বেলাল আহমেদ-কে ‘অ্যালামনাই অফ দ্য ইয়ার’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। সদ্য পাস করা ক্যাডেটদের জন্য বিশেষ বৃত্তি ঘোষণা করা হয়, যা নতুন প্রজন্মের নাবিকদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা। অনুষ্ঠানে ফসিউর রহমান, ফয়সাল আল আসাদুজ্জামান, তানিয়া বেগমসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন এবং নিজেদের মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন। এই পর্বটি সম্প্রদায়ের শ্রেষ্ঠত্ব উদযাপন এবং ভবিষ্যৎ বিকাশে তাদের অঙ্গীকারকে ফুটিয়ে তোলে।

মনোজ্ঞ আয়োজনে সমাপ্তি

দিনব্যাপী এই আয়োজনটি ছিল পেশাগত অঙ্গীকার এবং আন্তরিক ব্যক্তিগত পুনর্মিলনের এক অনবদ্য মিশ্রণ, যা উপস্থিত সকলের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করে। এই মহা-উৎসবটি কেবল একটি সভা ছিল না, বরং এটি ছিল বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্প্রদায়ের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন। দিনের কার্যক্রম একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং উত্তেজনাপূর্ণ র‍্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে আনন্দঘন পরিবেশে সমাপ্ত হয়। এই সমাপ্তি সকলের মনে লালিত স্মৃতি এবং ঐক্য ও উদ্দেশ্যের এক নতুন অনুভূতি রেখে যায়।

আরও পড়ুন