রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিমিষেই ছাই হয়ে গেছে দুই চাষির দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল। উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের পারিলা গ্রামের বাগমারা বিলে সোমবার রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ভয়াবহ এই আগুনে প্রায় দুই বিঘা জমির পানের বরজ পুড়ে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
শান্ত রাতে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা
ঘটনার সময়টি ছিল সোমবার রাত সাড়ে নয়টা। এলাকার মসজিদে তখন এশার নামাজ শেষে তারাবির শেষ পর্যায়ের ইবাদত চলছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ 'আগুন আগুন' চিৎকারে নিস্তব্ধতা ভেঙে যায় পুরো গ্রামের। মুসল্লিরা নামাজ শেষে বের হয়েই দেখতে পান বাগমারা বিলের পানের বরজে দাউদাউ করে জ্বলছে বিধ্বংসী আগুন। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়তে থাকে চারদিকে।
অদম্য চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণ, তবে পুড়ে ছাই চাষির স্বপ্ন
বিপদ বুঝতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারা যে যার মতো করে পানি ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে ঝাঁপিয়ে পড়েন। একই সাথে দুর্গাপুর ফায়ার সার্ভিসকেও খবর দেওয়া হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই গ্রামবাসীদের সম্মিলিত অদম্য প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ডে রসুলপুর এলাকার নজরুল ইসলামের এক বিঘা এবং পারিলা গ্রামের গোলাম নবীর ১৮ কাঠা জমির পানের বরজ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গাপুর ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুন নিভে যাওয়ার খবর পেয়ে তারা মাঝপথ থেকেই ফিরে আসেন।
নেপথ্যের রহস্যের সন্ধানে তদন্তকারী দল
ফসলি জমিতে ঠিক কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো, তা নিয়ে এখনও কাটেনি ধোঁয়াশা। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে। তবে আগুনের উৎস সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই জানানো হবে বলে আশ্বস্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন।