কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ১০ জন দগ্ধ, ৫০টি ঘরবাড়ি ধ্বংস
কক্সবাজারের পর্যটন নগরীর প্রাণকেন্দ্র কলাতলীতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে নবনির্মিত 'এন আলম ফিলিং স্টেশন' নামক একটি গ্যাস পাম্পে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটলে মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময়ের রুদ্ধশ্বাস প্রচেষ্টার পর অবশেষে নিয়ন্ত্রণে এসেছে সেই প্রলয়ংকরী আগুন।
রাতের নিস্তব্ধতা চিরে আগুনের লেলিহান শিখা
ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার রাত ১০টার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পাম্পটিতে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুনের লেলিহান শিখা আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, পাম্পের আশপাশের অন্তত ৫০টি ঘরবাড়ি ও দোকানপাট পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এছাড়াও একটি গ্যারেজে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিটের সম্মিলিত বাহিনী কাজ শুরু করে।
মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন দগ্ধ ১০ জন
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন দগ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, দীর্ঘ চার ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস চেষ্টার পর রাত পৌনে দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে এলাকা জুড়ে মাইকিং করা হয়। প্রশাসন থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়ে এখন পুরো এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের সহায় সম্বল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
গ্যাস পাম্পে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে কারিগরি ত্রুটি বা সুরক্ষা ব্যবস্থার অভাবকে দায়ী করা হচ্ছে। পর্যটন মৌসুমে এমন দুর্ঘটনা পর্যটন খাতের নিরাপত্তার ওপর বড় প্রশ্ন চিহ্ন একে দিয়েছে।