দেশের অর্থনীতি খাদের কিনারায়? রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেল
সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলেও শুরুতেই বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে রাষ্ট্র। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা আগে থেকেই স্পষ্ট ছিল, যা বর্তমানে আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। লাগামহীন সুদের হার এবং পুঁজিবাজারে আস্থার চরম অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই (জুলাই-জানুয়ারি) রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এই বিশাল অঙ্কের ঘাটতি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং নতুন সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জানুয়ারিতে সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৫৮ শতাংশ, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়। বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে পিষ্ট সাধারণ মানুষের ভোগ কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ে এর নেতিবাচক প্রতিফলন ঘটেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চ সুদের হার বহাল রাখার নীতিও এখন পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আশানুরূপ ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা অর্থনীতিতে আরও চাপ সৃষ্টি করছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই (জুলাই-জানুয়ারি) রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এই বিশাল অঙ্কের ঘাটতি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং নতুন সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
খালি হচ্ছে কোষাগার: কেন এই বিশাল ধস?
এনবিআরের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। কিন্তু আদায়ের চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনটি প্রধান খাতেই মোট ৬০ হাজার ১১৩ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে আয়কর খাত থেকে, যেখানে ঘাটতির পরিমাণ ২৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। এছাড়া আমদানি পর্যায়ে ১৫ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা এবং ভ্যাট খাতে ১৫ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার ঘাটতি দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, আয়ের এই নেতিবাচক চিত্র নবনির্বাচিত সরকারকে চরম ভোগান্তিতে ফেলতে পারে।বিনিয়োগে স্থবিরতা ও সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস
দেশের শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা নতুন করে বিনিয়োগে সাহস পাচ্ছেন না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই ব্যবসা সম্প্রসারণে ধীরগতি ছিল, যা বর্তমান পরিস্থিতিতেও কাটেনি। সরকারি প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে পড়ায় শিল্পের কাঁচামাল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে আমদানি পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত শুল্ক পাচ্ছে না এনবিআর। অন্যদিকে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ভ্যাট আদায়ও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে রয়েছে।জানুয়ারিতে সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৫৮ শতাংশ, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়। বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে পিষ্ট সাধারণ মানুষের ভোগ কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ে এর নেতিবাচক প্রতিফলন ঘটেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চ সুদের হার বহাল রাখার নীতিও এখন পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আশানুরূপ ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা অর্থনীতিতে আরও চাপ সৃষ্টি করছে।