মিথ্যা মামলায় মেহজাবীনের মুক্তি: ফাঁস হলো বাদীর ‘চাঞ্চল্যকর’ জালিয়াতি
দেশের শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় মুখ মেহজাবীন চৌধুরী ও তাঁর ভাই আলিশান চৌধুরী অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে আদালত তাঁদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন। গত সোমবার ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আদনান জুলফিকার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই চূড়ান্ত আদেশ প্রদান করেন। আদালতের এই রায়ে আইনি জটিলতা কাটিয়ে আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার সুযোগ পেলেন এই অভিনেত্রী।
নথিপত্রে জালিয়াতির মহোৎসব
মামলার শুনানিকালে উঠে আসে বাদীর জালিয়াতির এক অবিশ্বাস্য চিত্র। মেহজাবীনের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার আদালতের সামনে প্রমাণসহ তুলে ধরেন যে, বাদী নিজের ঠিকানা হিসেবে যে তথ্য দিয়েছেন, তা আদ্যপান্ত ভুয়া। নথিপত্রে জেলা ‘ঢাকা’ উল্লেখ করা হলেও থানা হিসেবে লেখা হয়েছে ‘ফেনী সদর’, যা ভৌগোলিকভাবে অসম্ভব। এখানেই শেষ নয়, বাদী যোগাযোগের জন্য যে মুঠোফোন নম্বরটি ব্যবহার করেছেন, সেটি ছিল ১২ সংখ্যার—যা বাংলাদেশের টেলিকম নীতিমালার পরিপন্থী এবং বাস্তবে অস্তিত্বহীন।
‘চেনেনই না’ অভিযোগকারীকে
শুনানিতে বিবাদীপক্ষের আইনজীবী জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, মেহজাবীন চৌধুরী বা তাঁর পরিবারের কেউ বাদীকে চেনেন না। তাঁদের মধ্যে অতীতে কোনো পরিচয় বা ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল না, তাই হুমকি দেওয়ার প্রশ্নটিই অবান্তর। মূলত, কোনো অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যেই সম্পূর্ণ মনগড়া ও কাল্পনিক অভিযোগ সাজিয়ে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যার কোনো বাস্তবিক ভিত্তি নেই।
আদালতের পর্যবেক্ষণেও উঠে আসে অভিযোগের অসারতা। বাদীপক্ষ তাদের দাবির সপক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ বা সাক্ষী হাজির করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়। এমনকি আর্জিতে উল্লেখিত সাক্ষীদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানাও ছিল না, যা মামলার গ্রহণযোগ্যতাকে শুরুতেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে বিচারক অভিযোগটি খারিজ করে দেন এবং মেহজাবীন ও আলিশান চৌধুরীকে মামলা থেকে চূড়ান্ত অব্যাহতির আদেশ দেন।
রায় ঘোষণার পর আইনজীবী তুহিন হাওলাদার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সত্যের জয় হয়েছে। আদালতের এই আদেশের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে পুরো বিষয়টি ছিল সাজানো নাটক।’ এই রায়ের ফলে মেহজাবীন চৌধুরী ও তাঁর ভাই এখন আইনগতভাবে সম্পূর্ণ দায়মুক্ত। ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরাও প্রিয় অভিনেত্রীর এই আইনি জয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।