মেসির জাদুতে ইন্টার মায়ামির অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, ৪-২ গোলে জয়
মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) নতুন মৌসুমের শুরুটা ইন্টার মায়ামির জন্য মোটেও মসৃণ ছিল না। প্রথম ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির কাছে ২-০ গোলে হারের পর অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষেও প্রথমার্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে দলটি। এর ফলে মৌসুমের প্রথম ১৩৫ মিনিটে মায়ামি মোট ৫-০ গোলে পিছিয়ে থেকে এক চরম হতাশাজনক পরিস্থিতিতে পড়েছিল। লিওনেল মেসি ও তাঁর সতীর্থদের চোখে-মুখে তখন স্পষ্ট ছিল পরাজয়ের শঙ্কা ও অসহায়ত্বের ছাপ।
যেভাবে পাল্টে গেল ম্যাচের চিত্রনাট্য
বিরতির পর কোচ হাভিয়ের মাসচেরানোর কৌশলী পরিবর্তন খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। লেফটব্যাক নোয়া অ্যালেনের বদলে আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মাতেও সিলভেত্তিকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্তটি ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। ৪৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ২০ বছর বয়সী সিলভেত্তির দুর্দান্ত এক শটে ব্যবধান কমায় মায়ামি। এরপরই শুরু হয় আসল জাদু। ৫৭ মিনিটে ছয়জন ডিফেন্ডারের প্রাচীর ভেদ করে মেসির বাঁ পায়ের নিখুঁত শট জালে জড়ায়। এটি ছিল এ বছরে তাঁর প্রথম গোল, যার মাধ্যমে ম্যাচে ২-২ সমতা ফেরে।
ম্যাচের ৮৫ মিনিটে মেসির অসাধারণ এক সহায়তায় তালিসকো সেগোভিয়া গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। এরপর ৯০ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ—মেসির ফ্রি-কিক জাদু। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর বাঁ পায়ের শট সরাসরি জালে জড়ালে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-২। এটি এমএলএস নিয়মিত মৌসুমে মেসির ৭০তম ফ্রি-কিক গোল। এই গোলের মাধ্যমে তাঁর ক্যারিয়ার গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯৮-এ, যা তাঁকে ৯০০ গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক থেকে মাত্র দুই ধাপ দূরে এনে দাঁড় করিয়েছে।
ইতিহাসের দোরগোড়ায় মেসি
ম্যাচ শেষে ইন্টার মায়ামির কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো অ্যাপল টিভিকে বলেন, “গত মৌসুমে অরল্যান্ডো আমাদের জন্য খুব কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। দলটি শক্তিশালী এবং তাদের কোচও দারুণ। এখানে জিততে হলে আমাদের নিখুঁত ফুটবল খেলতে হতো। আমরা জানতাম তারা আমাদের ওপর চাপ তৈরি করবে।” শুরুতে হোঁচট খেলেও এই নাটকীয় জয় মায়ামি সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সঞ্চার করেছে। আগামী শনিবার ওয়াশিংটনের অডি ফিল্ডে ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামবে তারা।