সর্বশেষ
Loading breaking news...

অস্ট্রেলিয়ায় বয়সের কড়াকড়িতে এক সপ্তাহেই সাড়ে ৫ লাখ অ্যাকাউন্ট ডিলিট করল মেটা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আইনি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থেকেই কঠোর অবস্থানে মেটা। নতুন আইন চালুর প্রথম সপ্তাহেই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডস মিলিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে এই প্রযুক্তি জায়ান্ট। মূলত শিশুদের অনলাইন জগতের ক্ষতিকর বিষয়বস্তু এবং অ্যালগরিদমের নেতিবাচক প্রভাব থেকে দূরে রাখতেই অস্ট্রেলিয়া সরকার এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের এই কঠোর বিধিনিষেধ মেনে মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের সরিয়ে দিতে তড়িৎ গতিতে কাজ শুরু করেছে। মেটার এই পদক্ষেপে দেশটির ডিজিটাল পরিসরে এক বড় ধরণের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।


পরিসংখ্যানে মেটার কঠোরতা

মেটার প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের প্রথম সাত দিনেই ইনস্টাগ্রাম থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৩৯টি অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা হয়েছে। জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক থেকে সরানো হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭টি এবং থ্রেডস থেকে ৩৯ হাজার ৯১৬টি অ্যাকাউন্ট। সংস্থাটি কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও, তারা সরকারের এই ‘সার্বিক নিষেধাজ্ঞা’র কৌশলের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়। মেটার মতে, এত বিপুল সংখ্যক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা প্রযুক্তিগত ও সামাজিক দিক থেকে একটি জটিল প্রক্রিয়া। তবুও স্থানীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই তারা এই বিশাল নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে।


বিকল্প পথের প্রস্তাবনা

মেটা মনে করে, প্রতিটি অ্যাপের জন্য আলাদাভাবে বয়স যাচাইয়ের নিয়ম না করে অ্যাপ স্টোর পর্যায়েই এটি নিয়ন্ত্রণ করা অধিক যুক্তিযুক্ত। তাদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, অ্যাপ ডাউনলোড করার সময়ই যদি অ্যাপল বা গুগল বয়স যাচাই করে নেয়, তবে তা আরও বেশি কার্যকর হবে। এতে সমস্ত অ্যাপের জন্য একটি অভিন্ন সুরক্ষা বলয় তৈরি হবে এবং ব্যবহারকারীরা সহজেই অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে গিয়ে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পারবে না। মেটা সতর্ক করে বলেছে, বিচ্ছিন্নভাবে অ্যাপভিত্তিক কড়াকড়ি আরোপ করলে কিশোররা প্রযুক্তির ফাঁকফোকর খুঁজে বের করতে পারে। একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা থাকলে অভিভাবকরাও সন্তানদের ডিজিটাল কার্যকলাপ নিয়ে অনেকটা নিশ্চিন্ত থাকতে পারতেন।


বিশ্বজুড়ে নতুন সমীকরণ

অস্ট্রেলিয়ার এই আইনটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা আধুনিক বিশ্বে বিরল ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ পার্টিও ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা ক্ষমতায় এলে অস্ট্রেলিয়ার আদলে একই ধরনের আইন প্রণয়ন করবে। বিশ্বজুড়ে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও অনলাইন আসক্তি কমাতে এই ধরনের পদক্ষেপ একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে। বিভিন্ন দেশের অভিভাবক মহল এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।


ঝুঁকি ও সমালোচনার ঝড়

সমালোচকদের মতে, প্রযুক্তির মারপ্যাঁচে পারদর্শী অস্ট্রেলীয় শিশুরা ভিপিএন বা অন্য কোনো উপায়ে সহজেই এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে পারে। তাদের মূল আশঙ্কা হলো, মূলধারার নিরাপদ প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে বিতাড়িত হয়ে শিশুরা আরও ঝুঁকিপূর্ণ এবং অনিয়ন্ত্রিত অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। এতে হিতে বিপরীত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ ওইসব প্ল্যাটফর্মে নজরদারির কোনো ব্যবস্থা নেই। এছাড়া ডিজিটাল সাক্ষরতার যুগে শিশুদের পুরোপুরি প্রযুক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে তাই বিতর্ক ও বিশ্লেষণ অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন