সর্বশেষ
Loading breaking news...

আকাশে যুদ্ধের দামামা: ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ২৪৫ ফ্লাইটের মহাবিপর্যয়

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান রণপ্রস্তুতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির চরম মূল্য দিতে হচ্ছে বাংলাদেশের আকাশপথকে। যুদ্ধের আশঙ্কায় আকাশপথ অনিরাপদ হয়ে পড়ায় গত সাত দিনে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী অন্তত ২৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যগামী হাজার হাজার প্রবাসী এবং সাধারণ যাত্রীর গন্তব্যে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, যা দেশের এভিয়েশন খাতে এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সংখ্যার নেপথ্যে এক অশনিসংকেত

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে আকাশপথ রুদ্ধ হয়ে পড়ায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট বাতিলের হিড়িক শুরু হয়। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি এবং ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। সংকটের তীব্রতা বেড়ে ২ মার্চ সর্বোচ্চ ৪৬টি ফ্লাইটের ডানা থমকে যায়। এরপর ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি এবং ৫ মার্চ ৩৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত থাকায় একে একে সাত দিনের ব্যবধানে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা ২৪৫-এ গিয়ে ঠেকেছে। আকাশপথের এই অচলাবস্থা কেবল এয়ারলাইন্সগুলোর জন্যই নয়, বরং দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা প্রবাসী শ্রমিকদের জন্যও এক বড় দুঃসংবাদ। অনেকেই টিকেট কেটেও গন্তব্যে যেতে পারছেন না, ফলে ভিসা ও কর্মস্থলে যোগদান নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।

আকাশের ডানা যেখানে স্থবির

পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় আজ শুক্রবারও অন্তত ৩৩টি ফ্লাইটের যাত্রা রদ করা হয়েছে। বাতিল হওয়া এই দীর্ঘ তালিকায় রয়েছে বিশ্বের খ্যাতনামা সব বিমান সংস্থা। এর মধ্যে এয়ার অ্যারাবিয়া ৬টি, কুয়েত ও জাজিরা এয়ারওয়েজ ৪টি করে এবং এমিরেটস এয়ারলাইনস ৪টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। বাদ পড়েনি দেশীয় এয়ারলাইনসগুলোও; ইউএস-বাংলা ৫টি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আজ ২টি ফ্লাইট পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এছাড়া কাতার এয়ারওয়েজ, ফ্লাই দুবাই এবং গালফ এয়ারের একাধিক ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। যুদ্ধের কারণে আকাশসীমা বন্ধ হওয়া এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকায় এয়ারলাইনসগুলো এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা না কমা পর্যন্ত এই সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে, যা বাংলাদেশের এভিয়েশন বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আরও পড়ুন