ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য: ‘ভয়াবহ প্রতিশোধে’র হুঁশিয়ারি ইরানের
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম উত্তেজনার পর্যায়ে পৌঁছেছে। শনিবার ভোররাতে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন কৌশলগত অঞ্চলে এই নজিরবিহীন হামলা চালানো হয়। এই অভিযানটি মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের প্রক্সি যুদ্ধকে সরাসরি সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলো সরাসরি যুক্ত হয়েছে। হামলার পরপরই তেহরানে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং ইরান একে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে।
ইরানের কঠোর প্রতিশোধের অঙ্গীকার
হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ‘ভয়াবহ ও বিধ্বংসী’ প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তেহরানের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, মার্কিন-ইসরায়েলি এই সম্মিলিত আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার জন্য তারা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং তাদের আসন্ন পাল্টা আক্রমণ হবে অত্যন্ত শক্তিশালী। এই ঘোষণা অঞ্চলজুড়ে নতুন করে যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহল অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে এই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনা হ্রাসের চেষ্টা চললেও যৌথ হামলার ভয়াবহতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ইরানের রাজধানী তেহরানে হামলার ঘটনা দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো পাওয়া না গেলেও এই হামলা ইরানকে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত করছে।
‘নিয়ন্ত্রণহীন পথে যাত্রা’র সতর্কবার্তা
ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সরাসরি ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তারা এমন এক পথে যাত্রা শুরু করেছে যার শেষ তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আজিজি সতর্ক করে বলেন, “আমরা তোমাকে আগেই সাবধান করেছিলাম।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, ইরান এই হামলাকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে না বরং একে বড় ধরনের যুদ্ধের সূত্রপাত হিসেবে বিবেচনা করছে।
ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় বিশ্ব যখন রুদ্ধশ্বাস অবস্থায় রয়েছে, তখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং পারস্য উপসাগরের নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের এই যৌথ অভিযান ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবের বিরুদ্ধে এক কঠোর বার্তা। এখন দেখার বিষয়, এই পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয় নাকি কৌশলগত কোনো সমাধানে পৌঁছায়।