মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় চট্টগ্রামে ৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল, যাত্রীদের ভোগান্তি
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে, যার ফলে যাত্রী সাধারণের মধ্যে ব্যাপক অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়ন (এফআইআর) সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
বাতিল ফ্লাইটের তালিকা
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-চট্টগ্রাম-দুবাই (বিজি-১৪৭) এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম-শারজাহ (বিজি-১৫১) ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দোহাগামী ফ্লাইট বিএস-৩৩৩ ওড়ার কথা থাকলেও তা বাতিল হয়েছে। এতে শত শত প্রবাসী শ্রমিক ও যাত্রীরা বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন।
শুধু যাওয়ার ফ্লাইট নয়, আসার ফ্লাইটও বাধার মুখে পড়েছে। শারজাহ থেকে এয়ার আরাবিয়া, দুবাই থেকে ইউএস-বাংলা এবং মাস্কাট থেকে সালাম এয়ারের ফ্লাইট চট্টগ্রামে আসতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে ফ্লাইটগুলো যাত্রা শুরু করতে না পারায় এই শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মাস্কাট থেকে আসা একটি ফ্লাইট (বিজি-১২২) সফলভাবে চট্টগ্রামে অবতরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিকল্প ব্যবস্থা ও সতর্কতা
আন্তর্জাতিক রুটে বিঘ্ন ঘটলেও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীদের পরবর্তী ফ্লাইটের সময় জানিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত যে দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় কত দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে, চট্টগ্রামের এই চিত্র তার প্রমাণ। যাত্রীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।