বগুড়ায় তারেক রহমানের জনসভায় মোবাইল চোরদের উৎপাত, এমপির ফোনও চুরি
বগুড়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভাকে কেন্দ্র করে মোবাইল চোরদের একটি বড় চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। উপচে পড়া ভিড়ের সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা অর্ধশতাধিক মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিয়েছে। ভুক্তভোগীদের তালিকায় নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এমনকি বগুড়া-২ আসনের একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থীও রয়েছেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমাবেশে চুরির এই ঘটনা জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
জনসমুদ্রের আড়ালে চোরের অবাধ বিচরণ
তারেক রহমানের বক্তব্য শুনতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জড়ো হন। মাঠ ছাপিয়ে ভিড় শহরের সাতমাথা সহ বিভিন্ন সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিপুল জনসমাগমকেই টার্গেট করে চোরচক্র। ভুক্তভোগীরা জানান, ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি বা অচেনা স্পর্শের মুহূর্তেই গায়েব হয়ে যায় পকেটে বা ব্যাগে থাকা সাধের মোবাইল ফোন। সভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিষয়টি টের পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন অনেকে।
দামি ফোন হারিয়ে হাহাকার
এই ঘটনায় শুক্রবার রাত পর্যন্ত বগুড়া সদর থানায় ৫০টির বেশি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ব্যবসায়ী রাজেদুর রহমান রাজু জানান, প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের শখের ফোনটি তিনি ভিড়ের মধ্যে হারিয়েছেন। অনেক ভুক্তভোগী তাদের প্রয়োজনীয় যোগাযোগ মাধ্যম ও ব্যক্তিগত তথ্য হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে সংঘবদ্ধ চক্রটি পরিকল্পিতভাবে এই অপকর্ম চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সন্দেহভাজন আটক ও পুলিশের ভাষ্য
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে জনতা দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনিরুল ইসলাম জানান, ফোন হারানোর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। অভিযোগের ভিত্তিতে হারানো মোবাইলগুলো উদ্ধারে প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য কৌশল ব্যবহার করে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ সতর্কতা ও নিরাপত্তা
বড় কোনো রাজনৈতিক সমাবেশের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি পকেটমার ও চোরদের দৌরাত্ম্য রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে তারা সিসিটিভি ফুটেজ এবং আটককৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের বাকি সদস্যদের ধরার চেষ্টা করছে। নাগরিকদের ভিড়ের মধ্যে নিজেদের মূল্যবান সামগ্রী সামলে রাখার আহ্বানও জানানো হয়েছে।