সর্বশেষ
Loading breaking news...

বিপ্লবী গার্ডের প্রভাবে ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ইরানে ক্ষমতার পালাবদলে এক নাটকীয় ও অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তার পুত্র মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে গৃহীত এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের শোরগোল ফেলে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মোজতবার এই উত্থান ইরানের শাসনব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

নেপথ্যে বিপ্লবী গার্ডের অদৃশ্য হাত

ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা চলছিল। সংবাদমাধ্যম 'ইরান ইন্টারন্যাশনাল'-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, মোজতবা খামেনিকে এই সর্বোচ্চ পদে বসানোর পেছনে মূল কলকাঠি নেড়েছে দেশটির অত্যন্ত প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বিপ্লবী গার্ডের প্রবল চাপ ও প্রভাবের মুখেই ইরানের নীতিনির্ধারক পর্ষদ 'এসেম্বলি অব এক্সপার্টস' মোজতবাকে পরবর্তী নেতা হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।

এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ইরানের রাজনীতিতে বিপ্লবী গার্ডের প্রভাব এখন কতটা একচ্ছত্র। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোজতবাকে ক্ষমতায় বসানোর মাধ্যমে বিপ্লবী গার্ড রাষ্ট্রক্ষমতার ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করল। এটি ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যকে সামরিক বাহিনীর অনুকূলে নিয়ে যেতে পারে, যা দেশটির ভবিষ্যৎ নীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।

তেহরানের আকাশে ক্ষমতার নতুন মেরুকরণ

মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে পিতার ক্ষমতা কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। এখন তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে নিয়ে আসার বিষয়টি তেহরানের ক্ষমতার অলিন্দে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। বুধবার এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিশ্বনেতারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

পারিবারিক উত্তরাধিকার ও সামরিক প্রভাবের এই সংমিশ্রণ ইরানের শাসনতন্ত্রে এক নজিরবিহীন ঘটনা। এটি দেশটির কট্টরপন্থী অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে নাকি নতুন কোনো রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দেবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে আপাতত মোজতবা খামেনির নেতৃত্ব গ্রহণ ইরানের ভূ-রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন