খেলার মাঠের এক নক্ষত্রের পতন: 'ভলিবলের কামাল' মোস্তফা কামালের চিরবিদায়
দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগে অবশেষে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক বর্ণময় ব্যক্তিত্ব, সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠক মোস্তফা কামাল। রোববার ভোরে নিজ বাসভবনে ৮৮ বছর বয়সে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যা রেখে গেছেন। তার এই প্রয়াণে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
ফুটবল থেকে ভলিবলে যাত্রা
ক্রীড়াক্ষেত্রে মোস্তফা কামাল ছিলেন এক দুর্লভ প্রতিভা। ষাটের দশকে তিনি ঢাকা মোহামেডানের হয়ে ফুটবল মাঠে খেলেছেন, তবে তাঁর হৃদয়ের গভীরে স্থায়ী আসন গেড়েছিল ভলিবল। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে ভলিবল প্রশিক্ষক হিসেবে যুক্ত হন এবং দীর্ঘ সময় ভলিবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতির গুরুদায়িত্ব পালন করেন। তাঁর হাত ধরেই দেশের ভলিবল পেয়েছে বহু নতুন দিকনির্দেশনা এবং জনপ্রিয়তা।
বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর
কেবল ভলিবল নয়, মোস্তফা কামালের সম্পৃক্ততা ছিল ফুটবলের প্লেয়ার স্ট্যাটাস কমিটি পর্যন্ত। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। খেলোয়াড়, কোচ ও সংগঠক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি ক্রীড়া সাংবাদিকতাতেও উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে গেছেন। বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির অন্যতম প্রবীণ সদস্য হিসেবেও তাঁর পরিচিতি ছিল, যা তাকে ক্রীড়াঙ্গনে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
ভলিবলের কামাল উপাধি
ক্রীড়াঙ্গনে ছয় দশকের বেশি সময় ধরে অবদান রাখা এই ব্যক্তিত্ব ক্রীড়ামোদী মহলে বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন 'ভলিবলের কামাল' নামে। তার নিষ্ঠা, সততা এবং খেলার প্রতি ভালোবাসা তাকে সবার কাছে শ্রদ্ধেয় করে তুলেছিল। তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য তিনি ছিলেন এক অনুপ্রেরণার উৎস। তার মৃত্যুতে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান পূরণ হওয়া কঠিন বলে মনে করছেন তার সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
শ্রদ্ধা নিবেদন ও দাফন
আজ বাদ জোহর শান্তিনগর ইস্টার্ন প্লাস শপিংমল জামে মসজিদে মোস্তফা কামালের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর মরদেহ রায়েরবাজারের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে। তাঁর প্রয়াণে ক্রীড়া লেখক সমিতি, ভলিবল ফেডারেশনসহ দেশের ক্রীড়া জগতের অসংখ্য সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।