সর্বশেষ
Loading breaking news...

ব্যাতিক্রমী দৃষ্টান্ত: এমপি প্রার্থী তমার পেশা টিউশনি, হলফনামায় মাসিক আয় মাত্র ২৫ হাজার

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

নির্বাচনী মাঠে কোটিপতি প্রার্থীদের ভীড়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুড়িগ্রামের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিয়া জাহান তমা। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার হলফনামা দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। সেখানে তিনি নিজের পেশা হিসেবে 'টিউশনি' উল্লেখ করেছেন এবং মাসিক আয় দেখিয়েছেন মাত্র ২৫ হাজার টাকা। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি এখন সততার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

 

 

সাদামাটা জীবনযাপন

 

 

 

তমা স্থানীয় একটি কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করে চাকরির পেছনে না ছুটে সমাজসেবায় মন দিয়েছেন। নিজের খরচ চালাতে তিনি এলাকার শিশুদের প্রাইভেট পড়ান। তার কোনো গাড়ি নেই, চলাফেরা করেন রিকশা বা অটোরিকশায়। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার কোনো ব্যাংক ঋণ নেই এবং স্থাবর সম্পত্তি বলতে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া এক টুকরো জমি। এমন একজন প্রার্থীকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত এলাকার তরুণ ভোটাররা।

 

 

 

রাজনীতিতে আসার কারণ

 

 

 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তমা বলেন, "রাজনীতি এখন বিত্তবানদের দখলে চলে গেছে। আমি দেখাতে চাই যে, টাকা ছাড়াও মানুষের সেবা করা যায়। আমার সম্বল সততা আর মানুষের ভালোবাসা।" তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রসারে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখতে চান।

 

 

 

জনগণের ভালোবাসা

 

 

 

তমার নির্বাচনী প্রচারণাও অন্যদের চেয়ে আলাদা। তার কোনো বড় শোডাউন বা মাইকিং নেই। তিনি পায়ে হেঁটে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। এলাকার মানুষ তাকে ভালোবেসে কেউ লিফলেট ছাপিয়ে দিচ্ছেন, কেউবা পানি-নাস্তা খাওয়াচ্ছেন। স্থানীয় এক বৃদ্ধ বলেন, "আমরা তো অনেক বড় বড় নেতা দেখলাম, কিন্তু তমার মতো এমন মাটির মানুষ দেখিনি। আমরা তাকেই ভোট দেব।"

 

 

 

প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতিক্রিয়া

 

 

 

তমার এই জনপ্রিয়তায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বড় দলের প্রার্থীদের কপালে। তারা প্রকাশ্যে কিছু না বললেও তমাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ আর দেখছেন না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তমা যদি শেষ পর্যন্ত মাঠে টিকে থাকেন, তবে তিনি চমক দেখাতে পারেন। তার এই উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করবে।

 

আরও পড়ুন