সর্বশেষ
Loading breaking news...

মুক্তাগাছায় ইফতার-পূর্ব সংঘর্ষ: পুলিশসহ আহত ১৫, সাঁজোয়া যানে প্রশমন

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভয়াবহ সংঘর্ষে পাঁচজন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার ইফতারের ঠিক আগে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রায় দশ থেকে বারোটি দোকান ভাঙচুর করা হয়, যা স্থানীয় জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়তে হয়।

ছোট্ট বাকবিতণ্ডা যেভাবে পরিণত হলো ভয়াবহ দাঙ্গায়

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার দুপুরে মুক্তাগাছা শহরের আটানী বাজারের ছোট মসজিদ মোড়ে। সেখানে একটি ভ্যানচালক ও একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকের মধ্যে সামান্য বাকবিতণ্ডা হয়। পাশের দোকানের মালিক সোহেল ও খোকন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করেন। কিন্তু সেই রেশ ধরেই বিকেলে পাড়াটঙ্গী এলাকার কিছু লোক এসে খোকন ও সোহেলের মনসুর স্টোর এবং গুদামঘরে ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা চরমে ওঠে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

বৈঠকের টেবিলে আগুন: ইফতারের পর শুরু হয় আসল তাণ্ডব

শনিবার পরিস্থিতি শান্ত করতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের ডাকে উভয় পক্ষ বৈঠকে বসলেও, সেই বৈঠক ব্যর্থ হয়। ইফতারের পর পরিস্থিতি নতুন মাত্রা নেয়। জানা গেছে, তারাটি ও পাড়াটঙ্গী এলাকার প্রায় দুই শতাধিক লোক একত্রিত হয়ে সশস্ত্র হামলা চালায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন ইটপাটকেলের আঘাতে পাঁচজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। এসময় লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবহারে দশজন সাধারণ মানুষও আহত হন।

রাত সাড়ে আটটায় র্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযান ও শীর্ষ পর্যায় থেকে কড়া হুঁশিয়ারি

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত সাড়ে আটটার দিকে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং র‍্যাব-১৪ যৌথভাবে সাঁজোয়া যান নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সাউন্ড গ্রেনেড এবং একাধিকবার ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে, মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়েছেন, দোষী ব্যক্তি যে দলেরই হোক না কেন, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন