স্বাস্থ্যসেবার প্রহসন: উদ্বোধনের ৪ বছর পরও তালাবদ্ধ বেহেরপাড়া ক্লিনিক, বঞ্চিত অর্ধলক্ষ মানুষ!
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের চরবেহেরপাড়া গ্রামে একটি অত্যাধুনিক কমিউনিটি ক্লিনিক উদ্বোধন হওয়ার চার বছর পরও তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এর ফলে প্রায় ৫০ হাজার প্রান্তিক মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নির্মিত একটি প্রতিষ্ঠানের এমন অকার্যকর অবস্থা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
তালাবদ্ধ ভবনের জীর্ণ দশা
সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্লিনিকটির মূল ফটকে বড় একটি তালা ঝুলছে। ভেতরের কক্ষগুলো ধুলোবালি আর মাকড়সার জালে আবৃত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ অবহেলায় দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনটি নির্মাণের পর বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও বর্তমানে তা বিচ্ছিন্ন। নতুন একটি ভবন এভাবে অব্যবহৃত পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ায় সরকারি সম্পদের অপচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
বাসিন্দারা জানান, ২০২০ সালে ক্লিনিকটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল এবং ২০২২ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে আজ পর্যন্ত এর কার্যক্রম শুরু হয়নি। ক্লিনিকটি চালু হলে এলাকার বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পাওয়া অনেক সহজ হতো। কিন্তু চার বছর ধরে ভবনটি কেবল একটি কঙ্কাল হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
চিকিৎসা সংকটে অর্ধলক্ষ মানুষ
ক্লিনিক বন্ধ থাকায় গ্রামবাসীকে সামান্য সর্দি-জ্বরের জন্যও অনেক দূরে সদর হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। এতে যেমন অর্থব্যয় হচ্ছে, তেমনি জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়ায় রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও জনবল নিয়োগ বা সরঞ্জাম সরবরাহের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সরকারিভাবে এই ক্লিনিকের জন্য এখনো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলেও তার কোনো সুরাহা মেলেনি। কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতা চরবেহেরপাড়ার ৫০ হাজার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবাকে একটি প্রহসনে পরিণত করেছে। এলাকাবাসী দ্রুত এই ক্লিনিকটি চালু করার জন্য সরকারের উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।