সর্বশেষ
Loading breaking news...

সেনাসমর্থিত দল মিয়ানমারের বিতর্কিত নির্বাচনের প্রথম ধাপে আধিপত্য বিস্তার করেছে

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মিয়ানমারের জান্তা সরকার আয়োজিত নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শেষে সেনাসমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) এগিয়ে রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে এই তথ্য জানানো হয়। বিরোধীদের বর্জন এবং গৃহযুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় 'প্রহসন' বলে অভিহিত করেছে। জান্তা সরকারের দাবি, গণতন্ত্রে ফেরার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে।



নির্বাচনী ফলাফলের প্রাথমিক চিত্র


বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ইউএসডিপি প্রার্থীরা বেশিরভাগ আসনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। বিশেষ করে ইয়াঙ্গুন ও নেপিদোর মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে তাদের আধিপত্য স্পষ্ট। তবে স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অনেক কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত নগণ্য এবং জোরপূর্বক ভোট নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। জান্তা নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশন অবশ্য দাবি করেছে যে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে।



বিরোধীদের বর্জন ও সমালোচনা


অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) সহ প্রধান বিরোধী দলগুলো এই নির্বাচন বর্জন করেছে। এনএলডি নেতারা এক বিবৃতিতে বলেছেন, "জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া বন্দুকের নলে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।" তারা জনগণকে এই সাজানো নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছেন। অনেক এলাকায় ভোটকেন্দ্রগুলো ছিল ফাঁকা, যা বিরোধীদের আহ্বানে জনগণের সাড়ার ইঙ্গিত দেয়।



আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া


জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই নির্বাচনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলছে, বিরোধী নেতাদের কারাগারে রেখে এবং মুক্ত গণমাধ্যমের অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে পারে না। পশ্চিমা দেশগুলো মিয়ানমারের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোও পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।



সেনা শাসনের ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত


বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জান্তা সরকার তাদের শাসনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। ইউএসডিপির বিজয় নিশ্চিত করে তারা ক্ষমতার কেন্দ্রে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে চায়। তবে এই নির্বাচন মিয়ানমারের চলমান রাজনৈতিক সংকট ও সহিংসতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গণতন্ত্রকামীরা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

আরও পড়ুন