এরিয়া ৫১-এর পাশে রহস্যময় শতাধিক ভূকম্পন: পারমাণবিক পরীক্ষার গুঞ্জনে উত্তপ্ত বিশ্ব
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা মরুভূমিতে অবস্থিত অতি গোপনীয় সামরিক ঘাঁটি ‘এরিয়া ৫১’-এর নিকটবর্তী অঞ্চলে গত এক সপ্তাহে শতাধিক রহস্যময় ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস (USGS) জানিয়েছে, এই কম্পনগুলোর মাত্রা রিখটার স্কেলে ২.৫ থেকে ৪.৩ পর্যন্ত ছিল। টোনোপাহ টেস্ট রেঞ্জের এই কম্পনগুলো কারসন সিটি থেকে লাস ভেগাস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
গোপন অস্ত্রের পরীক্ষা?
সামরিক বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ করছেন যে, এই ধারাবাহিক কম্পনগুলো কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, বরং মাটির নিচে অত্যন্ত শক্তিশালী কোনো মারণাস্ত্র বা পারমাণবিক পরীক্ষার ফল হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের আবহে ওয়াশিংটন তাদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য এমন কোনো গোপন মহড়া চালাচ্ছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো জল্পনা চলছে।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা
এই অস্বাভাবিক ভূকম্পন এমন এক সময়ে ঘটছে যখন ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটি তাদের মিসাইলের লক্ষ্যবস্তু। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নেভাদার মাটির নিচের এই কার্যকলাপকে বৈশ্বিক সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।
এরিয়া ৫১ ঐতিহাসিকভাবেই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন পরীক্ষার জন্য পরিচিত। তবে এবারের কম্পনগুলোর ধরন ও সংখ্যা অস্বাভাবিক হওয়ায় অনেক পরিবেশবাদী গোষ্ঠীও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত এই ভূকম্পনগুলোর কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেয়নি, যা রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে।
পরিশেষে, ভূ-বিজ্ঞানীরা বলছেন যে এলাকাটি ভূমিকম্পপ্রবণ হলেও এক সপ্তাহে ১০০টির বেশি কম্পন বিরল। এটি প্রাকৃতিক কারণেও হতে পারে, তবে সামরিক তৎপরতার সম্ভাবনাকে কেউ নাকচ করে দিচ্ছে না। বিশ্বরাজনীতিতে নেভাদার এই কম্পনগুলো এখন এক বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।