কেনিয়ার নাইরোবিতে বহুতল ভবন ধসে চারজন আটকা ও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত
পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে একটি সাত তলা আবাসিক ভবন ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুরে শহরের কাসারানি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ইউনিট এবং রেড ক্রসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছেন। তবে সরু রাস্তা ও ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
দুর্ঘটনার ভয়াবহ দৃশ্য
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই বিকট শব্দে ভবনটি ধসে পড়ে। ধুলার মেঘে পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন এবং কয়েকজনকে আহত অবস্থায় বের করে আনেন। ভবনটিতে বেশ কয়েকটি পরিবার বসবাস করত, তবে ধসে পড়ার সময় অনেকে কর্মস্থলে থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটকা পড়াদের স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
উদ্ধারকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টা
উদ্ধারকারী দলের প্রধান জানিয়েছেন, তারা কংক্রিট কাটার এবং সেন্সর ব্যবহার করে আটকা পড়াদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, "আমরা প্রাণের অস্তিত্বের সংকেত পেয়েছি। তাদের নিরাপদে বের করে আনতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।" সেনাবাহিনীকেও উদ্ধারকাজে সহায়তা করার জন্য তলব করা হয়েছে। রাতের অন্ধকার নামার আগেই উদ্ধারকাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন তারা।
ভবন ধসের সম্ভাব্য কারণ
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার এবং নকশা বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত তলা নির্মাণের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ছিল এবং বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই সেই নির্দেশনা মানেননি। ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ
নাইরোবির গভর্নর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি শহরের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে নির্মাণ বিধিনিষেধ কঠোরভাবে প্রয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এই ঘটনায় ভবন মালিকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।