নরসিংদীর চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ ও হত্যা: মূল হোতা নূরা গ্রেফতার, ভারতে পালানোর পরিকল্পনা ফাঁস
নরসিংদীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূল হোতা নূর মোহাম্মদ নূরাকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। একই সময়ে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অপর আসামি হযরত আলীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট সাতজনকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়
নরসিংদী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-ফারুক জানান, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার এজাহারে উল্লেখিত ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত চারজন এবং পরবর্তীতে অপরাধ লুকানো ও সহায়তার অভিযোগে আরও তিনজনসহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অবশিষ্ট পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নূর মোহাম্মদ নূরা নিজেকে এই পাশবিক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে স্বীকার করেছে। গ্রেফতারের সময় সে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার গভীর পরিকল্পনার কথাও ফাঁস করে। পুলিশের দক্ষতায় তার এই পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং মামলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন।
বিচারিক প্রক্রিয়া ও শোকাতুর পরিবেশ
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মোট নয়জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে। আদালত রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন। সর্বশেষ গ্রেফতার হওয়া নূরা ও হযরত আলীকেও আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ বিভাগ।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কিশোরী আমিনাকে তার বাবার কাছ থেকে নূরার নেতৃত্বে একটি চক্র জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।