সূর্যের অতীত ঝলসে উঠল মহাকাশে! কোটি বছর আগের আগ্নেয় রূপের সন্ধান দিল নাসা
মহাকাশ গবেষণায় এক যুগান্তকারী তথ্য সামনে আনল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। তারা এমন এক তরুণ সূর্যসদৃশ তারার চারপাশে তৈরি হওয়া গ্যাসের সুবিশাল বুদবুদের স্পষ্ট ছবি প্রকাশ করেছে, যা আমাদের সূর্যের শৈশবকাল সম্পর্কে এক নতুন আলোকপাত করতে পারে। পৃথিবী থেকে প্রায় ১২০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই তারার নাম এইচডি ৬১০০৫, যাকে বিজ্ঞানীরা ভালোবেসে ‘মথ’ নামেও ডেকে থাকেন।
তারার চারপাশে রহস্যময় গ্যাসের সুবিশাল আবরণ: অ্যাস্ট্রোস্ফিয়ারের ছবি উন্মোচিত
নাসার অত্যাধুনিক চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরি ব্যবহার করে এই অভূতপূর্ব ছবিটি তোলা সম্ভব হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই তরুণ তারাটি নিজের কক্ষপথের চারপাশে যে গরম গ্যাসের বিশাল খোলস তৈরি করেছে, জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় তাকে বলা হয় ‘অ্যাস্ট্রোস্ফিয়ার’। তারা পৃষ্ঠ থেকে নির্গত হওয়া অত্যন্ত শক্তিশালী কণার ঝড় বা ‘পার্টিকল উইন্ড’ এই গরম গ্যাসকে ছড়িয়ে দিয়ে এই সুবিশাল বুদবুদটি সৃষ্টি করে। এই বুদবুদ তার পার্শ্ববর্তী অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা গ্যাস এবং ধূলিকণাকে সজোরে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। আমাদের সূর্যও একই প্রক্রিয়ায় ‘হেলিওস্ফিয়ার’ নামে এক ধরনের সুরক্ষা বলয় তৈরি করে, যা পৃথিবীকে ক্ষতিকর মহাজাগতিক রশ্মি থেকে রক্ষা করে।
সূর্যের তুলনায় ২৫ গুণ ঘন ঝড়: তরুণ তারার অবিশ্বাস্য শক্তি
এইচডি ৬১০০৫ তারাটির বয়স মাত্র ১০ কোটি বছর, যেখানে আমাদের সূর্যের বয়স প্রায় ৫০০ কোটি বছর। এই তারুণ্যের কারণেই এটি অবিশ্বাস্য রকমের সক্রিয়। গবেষকরা দেখেছেন, তরুণ এই তারার কণার ঝড় সূর্যের ঝড়ের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি গতিশীল এবং ঘনত্বে প্রায় ২৫ গুণ বেশি। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী কেরি লিসের নেতৃত্বে এই গবেষণাটি বিখ্যাত ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ প্রকাশিত হয়েছে। লিস মন্তব্য করেন, এতদিন আমরা সূর্যের সুরক্ষা বলয় কেবল ভিতর থেকে বিশ্লেষণ করতে পেরেছি, বাইরে থেকে তার কাঠামো দেখা সম্ভব হয়নি। এই নতুন তথ্য আমাদের বুঝতে সাহায্য করবে যে, কোটি কোটি বছর আগে সূর্য ঠিক কতটা সক্রিয় এবং শক্তিশালী ছিল।
মথের ডানার মতো আকৃতি ও সূর্যের শৈশবের চাবিকাঠি
এই তারার নামকরণের নেপথ্যেও রয়েছে এক বিশেষ কারণ। ইনফ্রারেড টেলিস্কোপে দেখা যায়, এইচডি ৬১০০৫ তারাটির চারপাশের ধূলিকণার বিন্যাস অনেকটা মথ পোকার ডানার মতো দেখাচ্ছে, তাই এর ডাকনাম ‘মথ’। মজার বিষয় হলো, নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই তারার নিকটবর্তী অঞ্চলের পদার্থ আমাদের সূর্যের আশেপাশের উপাদানের চেয়ে প্রায় এক হাজার গুণ বেশি ঘন। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই ব্যতিক্রমী আবিষ্কার কেবল সূর্যের অতীত নয়, বরং তার সুদূর ভবিষ্যৎকে বোঝার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল মহাকাশ গবেষণার জগতে।