বাজেট স্বস্তি! এনবিআর-এর সিদ্ধান্তে ৬০% শুল্কছাড়, স্মার্টফোন এখন সাধারণের হাতের মুঠোয়
সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে অত্যাধুনিক মোবাইল ফোন পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটি নাটকীয়ভাবে হ্রাস করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে আমদানিকৃত প্রতিটি ফোনের ওপর আরোপিত শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা আমদানি শুল্কের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ বিশাল হ্রাস নির্দেশ করে।
স্বপ্নপূরণের পথে বড় বাধা অপসারণ
এই শুল্কহ্রাসের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে চলেছে সাধারণ ভোক্তাদের পকেটে। এনবিআর-এর এই সিদ্ধান্তের ফলে, আমদানি করা প্রতিটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল ফোনের মূল্যে প্রায় ৫,৫০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, যে সকল ফোনের আমদানি মূল্য ৩০ হাজার টাকা অতিক্রম করে, সেগুলোর ক্ষেত্রেই এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। এর মাধ্যমে সরকার মূলত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি বড় বাধা অপসারণ করতে চাইছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
দেশীয় শিল্পে দ্বিমুখী সুবিধাজনক সমীকরণ
তবে শুধুমাত্র আমদানিকারকদের উপরই নয়, দেশীয় মোবাইল ফোন সংযোজন শিল্পকেও প্রতিযোগিতার বাজারে সুরক্ষিত রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে রাজস্ব বোর্ড। স্থানীয় উৎপাদকদের সুবিধার জন্য উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রেও কাস্টমস ডিউটি হ্রাস করা হয়েছে। পূর্বে যেখানে উপকরণ আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য ছিল, তা কমিয়ে আনা হয়েছে ৫ শতাংশে। এই দ্বিমুখী ছাড়ের ফলে সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আমদানিকৃত উপকরণের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক ৫০ শতাংশ কমে গেছে।
স্থানীয় বাজারেও মিলবে বড় ছাড়
এর সুদূরপ্রসারী ফলস্বরূপ, দেশে সংযোজিত ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের মোবাইল ফোন প্রতিটিতে প্রায় ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আমদানিকৃত ফোনের সাথে পাল্লা দিয়ে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ নিশ্চিত করতেই এই ভারসাম্যমূলক নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এতে করে স্থানীয় উদ্যোক্তারাও নতুন করে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন এবং প্রযুক্তিবাজারে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
জনবান্ধব নীতির ধারাবাহিকতা ও ভিশন
এনবিআর জানিয়েছে, এই বৃহৎ শুল্ক ছাড়ের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা। সংস্থাটি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী যে আমদানি ও দেশীয় উৎপাদনে সমন্বয় করে এই পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে সকল স্তরের মানুষের কাছে উন্নত প্রযুক্তির ফোন সহজলভ্য হবে। এই ধরনের ‘জনবান্ধব নীতি’ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।