জেন-জি বিপ্লবের পর নেপালে ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণ: তরুণ বনাম পুরাতন শক্তির অগ্নিপরীক্ষা!
নয় দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতা, লাগাতার দুর্নীতি এবং আকাশছোঁয়া বেকারত্বের গ্লানি থেকে মুক্তি পেতে নেপালের জনগণ আজ ব্যালটের মাধ্যমে নিজেদের রায় দিচ্ছেন। গত সেপ্টেম্বরের রক্তক্ষয়ী গণবিক্ষোভ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া নজিরবিহীন ছাত্র আন্দোলনের আবহে এই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ ভোটার দেশটির ভাগ্য নির্ধারণ করতে চলেছেন।
গণবিক্ষোভের পটভূমি
গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন ভয়াবহ সহিংস রূপ নেয়, যার পরিণতিতে ৭৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। এই পরিস্থিতির জেরেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির পদত্যাগ অনিবার্য হয়ে পড়ে। বর্তমান নির্বাচন সেই উত্তাল সময়েরই রাজনৈতিক সমাপ্তি টানতে চলেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তারুণ্যের উত্থান ও নতুন চ্যালেঞ্জ
এই নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে প্রথাগত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে উদীয়মান তরুণ প্রজন্মের। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন মাত্র ৩৫ বছর বয়সী জনপ্রিয় র্যাপ শিল্পী থেকে রাজনীতিতে আসা বালেন্দ্র শাহ। রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে শাহের আগমন নেপালের সনাতন রাজনীতিতে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি কেবল একটি নির্বাচন নয়, বরং গত বছর ‘জেন-জি’ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত তরুণ সমাজের আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত প্রতিফলন। ভোটাররা এমন নেতৃত্ব খুঁজছেন যারা গতানুগতিক ক্ষমতার রাজনীতির বাইরে গিয়ে অর্থনৈতিক মুক্তি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে পারবে। হিমালয়ের দেশটিতে এবার নতুন ভোরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে সাধারণ মানুষ।
সকাল সাতটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি এই দিনটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ বলে উল্লেখ করেছেন। এই নির্বাচনে মোট ২৭৫ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। ধারণা করা হচ্ছে, প্রাথমিক ফলাফল আগামীকাল থেকেই আসতে শুরু করবে, তবে চূড়ান্ত ফল হাতে পেতে অন্তত এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতে পারে।