সর্বশেষ
Loading breaking news...

খামেনির মৃত্যু দাবি করে নেতানিয়াহুর মন্তব্যে ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা চরমে

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে হঠাৎ করেই চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক আকস্মিক টিভি ভাষণে দাবি করেছেন যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আর জীবিত নেই। যদিও তিনি সরাসরি এই মৃত্যুর ঘোষণা দেননি, তবে তার মন্তব্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার এবং উচ্চপদস্থ পারমাণবিক কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়েছে, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিস্ফোরক দাবি

নেতানিয়াহুর ঘোষণার পরপরই ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে খামেনি মারা গেছেন এবং তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই দাবি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। তবে, ইসরায়েলি পক্ষ থেকে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ উত্থাপিত হলেও ইরান তা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। একইসাথে নেতানিয়াহু ইরানি নাগরিকদের রাজপথে নেমে নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, যাকে অনেকে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।

ইসরায়েলের এই দাবিকে ইরান সরাসরি ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বা মানসিক লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জোর দিয়ে বলেছে যে শত্রুপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে ইরানকে মানসিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, তিনি যতটুকু জানেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জীবিত এবং সুস্থ আছেন।

ইরানের অটল অবস্থানের ঘোষণা

বিভ্রান্তি দূর করতে ইরানের দুটি নির্ভরযোগ্য সংবাদ সংস্থা, তাসনিম ও মেহের নিউজ, যৌথভাবে জানিয়েছে যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এখনও 'মাঠে দৃঢ় ও অটলভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন'। ইরানের দাবি, তাদের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু নিয়ে যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি দাবির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হতে পারে।

নেতানিয়াহুর দাবি এবং ইরানের পাল্টা জবাবের মধ্যে তৈরি হওয়া এই অস্পষ্টতা বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যদি এই দাবির সত্যতা পাওয়া যায়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের সূচনা করবে। আর যদি এটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে ইসরায়েলের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং দুই দেশের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধের তীব্রতা নতুন মোড় নেবে। বিশ্বনেতারা পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছেন।

আরও পড়ুন