নেদারল্যান্ডস দলে অভিজ্ঞদের প্রত্যাবর্তন এবং বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে ৯ ক্রিকেটারের বড় ছাঁটাই
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বহু প্রতীক্ষিত মহাযজ্ঞ সামনে রেখে নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট দল তাদের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে যেখানে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ওপরই সবচেয়ে বেশি ভরসা রাখা হয়েছে। টুর্নামেন্টের বড় চাপ সামলানোর জন্য রুলফ ফন ডার মেরওয়া এবং কলিন আকারম্যানের মতো অভিজ্ঞ তারকাদের পুনরায় দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ডাচ নির্বাচকদের এই সাহসী সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দেয় যে তারা বৈশ্বিক মঞ্চে প্রমাণিত পারফর্মারদের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারকে নতুন করে প্রাধান্য দিচ্ছেন। গত জুলাই মাস থেকে জাতীয় দলের বাইরে থাকা বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মুখকে আবারও রণক্ষেত্রে ফেরার বড় সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এটি নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপের কঠিন পরিস্থিতিতে ডাচদের লড়াই করার শক্তিমত্তাকে অনেকগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
অভিজ্ঞতার ভান্ডারে নতুন ভরসা
৪১ বছর বয়সী স্পিন অলরাউন্ডার রুলফ ফন ডার মেরওয়া এবং ৩৪ বছর বয়সী কলিন আকারম্যানের অন্তর্ভুক্তি দলের কৌশলগত গভীরতাকে আরও সুসংহত করেছে। তাদের পাশাপাশি বাস ডে লেডে, লোগান ফন বিক এবং টিম ফন ডার গুগটেনের মতো ক্রিকেটাররা ফিরে আসায় দলের পেস ও স্পিন বিভাগ নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। মাইকেল লেভিট ও জ্যাক লায়ন-কাশের মতো টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরাও জাতীয় দলে আবারও সুযোগ পেয়েছেন যারা দীর্ঘদিন দলের বাইরে ছিলেন। নির্বাচকরা বিশ্বাস করেন যে এই "পরীক্ষিত তারকাদের প্রত্যাবর্তন" বড় টুর্নামেন্টের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলোতে স্নায়ুর চাপ সামলাতে সাহায্য করবে। এই ক্রিকেটাররা এর আগেও আইসিসি ইভেন্টগুলোতে ডাচদের হয়ে অসামান্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন।
দলে বড়সড় রদবদল
তবে অভিজ্ঞদের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের ফলে কপাল পুড়েছে বর্তমান স্কোয়াডের অন্তত নয়জন ক্রিকেটারের যারা দলের বাইরে ছিটকে পড়েছেন। গত আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে এই বিশাল সংখ্যক ক্রিকেটারকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে যা বেশ বিস্ময়কর। বাদ পড়াদের তালিকায় ভিক্রামজিৎ সিং, শারিজ আহমাদ এবং টিম প্রিঙ্গলের মতো প্রতিশ্রুতিশীল নামগুলোও রয়েছে। এই বড় আকারের রদবদল স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয় যে দল তাদের কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে একটি কঠোর এবং পেশাদার অবস্থান গ্রহণ করেছে। নির্বাচকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে কোনো প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ না রেখে সেরা সামর্থ্যবান দলকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপ মিশনের প্রস্তুতি
নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হিসেবে স্কট এডওয়ার্ডস পুনরায় নেতৃত্ব দেবেন এবং তাঁর অধীনেই দল গ্রুপ ‘এ’-তে লড়াই করবে। ডাচদের এই বিশ্বকাপ অভিযান আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি বড় ম্যাচের মাধ্যমে শুরু হতে যাচ্ছে। গ্রুপ পর্বে তাদের অন্যান্য শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভারত, নামিবিয়া এবং স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবিলা করতে হবে। এই লক্ষ্যপূরণে ডাচ দলটি খুব শীঘ্রই শ্রীলঙ্কায় পৌঁছাবে যাতে তারা উপ-মহাদেশের কন্ডিশনের সাথে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। অধিনায়ক এডওয়ার্ডস তাঁর দল নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং তিনি মনে করেন এই ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড যেকোনো জায়ান্ট দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখে।
চূড়ান্ত স্কোয়াড একনজরে
ঘোষিত ১৫ সদস্যের এই চূড়ান্ত স্কোয়াডে অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের এক চমৎকার সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে যা ডাচ সমর্থকদের আশাবাদী করছে। স্কট এডওয়ার্ডসের নেতৃত্বে এই দলে নোয়াহ ক্রোস, মাক্স ও’ডাউড, সাকিব জুলফিকার এবং আরিয়ান দত্তর মতো ক্রিকেটাররা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ফ্রেড ক্লাসেন এবং পল ফন মিকেরেন পেস আক্রমণের দায়িত্ব সামলাবেন এবং তাদের সাথে অভিজ্ঞ লোগান ফন বিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। প্রতিটি পজিশনের জন্য যোগ্য বিকল্প নিশ্চিত করেই এই চূড়ান্ত তালিকাটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের লড়াইয়ে এই "অভিজ্ঞ ডাচ বাহিনী" ক্রিকেট বিশ্বের জন্য নতুন কোনো চমক নিয়ে আসতে পারে কি না।