সর্বশেষ
Loading breaking news...

নেত্রকোনাবাসীর শেষ শ্রদ্ধায় চিরনিদ্রায় শায়িত বেগম রোকেয়া

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

নারী জাগরণের অগ্রদূত, বিশিষ্ট সমাজকর্মী এবং সাবলম্বী প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক বেগম রোকেয়াকে চোখের জলে শেষ বিদায় জানিয়েছে নেত্রকোনাবাসী। বিদেশের মাটিতে ইন্তেকালের পর শনিবার রাতে তাঁর মরদেহ দেশে পৌঁছায় এবং রবিবার সকালে তাঁকে নেত্রকোনা শহীদ মিনারে আনা হয়। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ তাঁর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রিয় অভিভাবককে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য নারী উদ্যোক্তা ও কর্মীরা।

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিদায়

নাগরিক সমাজের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, নারী সংগঠন, এনজিও এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সকাল থেকেই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ভিড় জমান নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাঁরা বেগম রোকেয়ার কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে চন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে নেত্রকোনা পৌর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

বেগম রোকেয়া ১৯৪৮ সালের ১৭ মে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কাউরাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যবিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদের মতো কঠিন ব্যক্তিগত সংগ্রাম পাড়ি দিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ১৯৬৯ সালে নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং দীর্ঘ ১৬ বছর শিক্ষকতা করার পর ১৯৮৫ সালে ‘সাবলম্বী’ নামক প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। তাঁর এই উদ্যোগের ফলে হাজার হাজার নারী ও পুরুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পান এবং স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেন।

সংগ্রামমুখর এক জীবন

অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় পারিবারিক চাপে বিয়ে হলেও দমে যাননি বেগম রোকেয়া। বিবাহ বিচ্ছেদের পর দুই সন্তানকে নিয়ে পুনরায় পড়াশোনা শুরু করেন এবং গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘সাবলম্বী’ নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের ভরসাস্থল হয়ে ওঠে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি দেশ-বিদেশের বহু সম্মাননা পেয়েছেন এবং বিশ্বের ২০টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে নেত্রকোনাসহ সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি সুইডেনের স্টকহোমের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন এই মহীয়সী নারী। তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে মনে করেন স্থানীয় বিশিষ্টজনরা। তবে তাঁর আদর্শ ও কর্মের মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।

আরও পড়ুন