সর্বশেষ
Loading breaking news...

সকালের ৫ মিনিটে মানসিক চাপ উধাও, নিউরোসায়েন্সের চমকপ্রদ তথ্য

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

বর্তমান যান্ত্রিক যুগে মানসিক চাপ যেন মানুষের নিত্যদিনের ছায়াসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মব্যস্ততা ও প্রযুক্তির দাপটে আমাদের মন সব সময় অস্থির ও চঞ্চল থাকে। তবে নিউরোসায়েন্টিস্টরা দাবি করছেন, দিনের শুরুর মাত্র কয়েক মিনিটেই এই সমস্যার জাদুকরী সমাধান সম্ভব। দীর্ঘক্ষণ মেডিটেশন নয়, বরং সকালে ঘুম ভাঙার পর নিজের জন্য রাখা ৫ মিনিট সময় আপনার সারাদিনকে করে তুলতে পারে প্রশান্ত ও গতিময়।

স্নায়বিক বিপর্যয়ের গোপন ঝুঁকি

বিশিষ্ট ভারতীয় নিউরোসায়েন্টিস্ট ডা. শ্বেতা আদাতিয়া মনে করেন, মানসিক প্রশান্তির জন্য জীবনযাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। মনোবিদ গুরলিন বারুয়া জানান, ঘুম থেকে ওঠার পরপরই শরীরে ‘কর্টিসল’ হরমোনের মাত্রা বাড়তে থাকে যা আমাদের সজাগ করে। কিন্তু এই সময়েই যদি ইমেইল বা সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখা হয়, তবে স্নায়ুতন্ত্র হঠাৎই অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে মস্তিষ্ক তার স্বাভাবিক ভারসাম্য হারায় এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি ক্লান্তি ও ‘বার্নআউট’-এর ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে তোলে।

মস্তিষ্কের জাদুকরী তরঙ্গ বিন্যাস

ঘুম ও জাগরণের সন্ধিক্ষণে মানুষের মস্তিষ্ক ‘আলফা’ ও ‘থিটা’ তরঙ্গের এক বিশেষ অবস্থায় বিরাজ করে। আলফা হলো প্রশান্ত অথচ সচেতন অবস্থা, যা গভীর ধ্যানের স্তরে পাওয়া যায়, আর থিটা তরঙ্গ সৃজনশীলতা ও স্বপ্নিল ভাবনার জন্ম দেয়। ঘুম ভাঙার পর মোবাইল স্ক্রিন থেকে দূরে থাকলে এবং শান্ত হয়ে বসে থাকলে এই বিশেষ মানসিক অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়। এটি দিনের শুরুতেই মস্তিষ্ককে স্বচ্ছ রাখে এবং সারাদিন সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি করে।

বক্স ব্রিদিং ও রোদ

বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালকে সুন্দর করতে কিছু সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। ঘুম থেকে উঠেই ফোনের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা, হালকা স্ট্রেচিং বা ডায়েরিতে সারাদিনের পরিকল্পনা লেখা দারুণ ফলদায়ক হতে পারে। বিশেষ করে ‘বক্স ব্রিদিং’ বা ৪-৪-৪-৪ পদ্ধতিতে গভীর শ্বাস নেওয়ার প্রক্রিয়াটি স্নায়ুতন্ত্রকে মুহূর্তের মধ্যে শান্ত ও শিথিল করে। এছাড়া কয়েক মিনিট ভোরের মিষ্টি রোদে বসা শরীর ও মনের জন্য একটি প্রাকৃতিক টনিক হিসেবে কাজ করে।

সুস্থতার চাবিকাঠি ও সতর্কতা

ডা. আদাতিয়া ও মনোবিদ বারুয়া জোর দিয়ে বলেছেন, এই ছোট অভ্যাসগুলোই আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে প্রতিদিন নতুন করে ‘রিসেট’ করার সুযোগ দেয়। এটি শরীরকে সারাদিনের ধকল ও মানসিক চাপ মোকাবিলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করে তোলে। তাই যান্ত্রিকতার স্রোতে গা না ভাসিয়ে সচেতনভাবে দিনের শুরু করাটাই সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র। নিজেকে দিনের শুরুতে কিছুটা সময় দেওয়া বিলাসিতা নয়, বরং এটি সুস্থ ও সুন্দর জীবনের অপরিহার্য চাবিকাঠি।

আরও পড়ুন