সর্বশেষ
Loading breaking news...

নতুন সরকারের প্রথম পাঠ: তারেক রহমানের সামনে আমলাতন্ত্রের চ্যালেঞ্জ ও 'নিজাম-উল-মুলক'-এর প্রাচীন সতর্কতা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের ভিত্তি স্থাপন প্রশ্নে বাংলাদেশ আজও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভাবমূর্তির সংকটে ভুগছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছে। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই সপ্তাহ পার হলেও কিছু প্রাথমিক লক্ষণ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগপ্রাপ্তদের অপসারণ প্রক্রিয়া এবং কিছু মন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্য সরকারের প্রাথমিক দ্বিধা ও অস্বচ্ছতার ইঙ্গিত বহন করে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হয়তো তাঁর ওপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় গুরুভারকে আকাঙ্ক্ষার চেয়েও অনেক বেশি ভারি মনে করছেন। গত ২৫ ডিসেম্বরে জনসমুদ্রের সামনে তিনি যে সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা দিয়েছিলেন, বাস্তব দায়িত্ব গ্রহণের পর অভিজ্ঞ নেতার ভিড়ে সেই পরিকল্পনা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে তিনি কি দ্বিধাগ্রস্ত? জাতি তাঁর ওপর বিপুল আস্থা রেখেছে, তাই এই দ্বিধাগ্রস্ততার কোনো সুযোগ নেই। সরকারপ্রধানকে উপলব্ধি করতে হবে যে, শপথ অনুযায়ী দল নয়, দেশ ও জনগণই এখন তাঁর মুখ্য বিবেচ্য।

আমলাতন্ত্রের প্রতিরোধ এবং ‘লোহা গরম’ থাকার কৌশল

এই বিপত্তি কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকারপ্রধানকে শুরুতেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—সাবেক সরকারের প্রতি সহানুভূতিশীল আমলাদের ভূমিকা পর্যবেক্ষণ করা। বাংলাদেশের প্রতিটি ক্রান্তিকালে দেখা গেছে, আমলাতন্ত্রের একটি বড় অংশ নতুন পরিবর্তনকে সহজে মেনে নিতে পারে না। বিএনপি যদি প্রাথমিক অবস্থায় আমলাতন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে প্রতিশ্রুত সংস্কার বাস্তবায়নে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হবে। এ ক্ষেত্রে পারস্যের প্রাচীন প্রবাদটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য—‘লোহা গরম থাকতে আঘাত করলে ইচ্ছামতো আকৃতি দেওয়া যায়।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উচিত চাটুকারিতা রোধে তাঁর নামের আগে-পরে বিশেষণ যোগ করতে নিষেধ করার প্রশংসনীয় উদ্যোগটিকে আরও জোরদার করা। প্রায় সাড়ে নয় শ বছর আগে সেলজুক সাম্রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ‘নিজাম-উল-মুলক’ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সিয়াসতনামা’-য় সতর্ক করেছিলেন যে, নিজের পারিষদবর্গকে নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম শাসক কখনো জনগণকে শাসন করতে পারেন না। মন্ত্রীরা যদি চরিত্রবান ও নির্ভীক হন, তবেই দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।

বিএনপিকে আওয়ামী সংস্কৃতির ধারক না হয়ে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ও বিরোধী পক্ষের প্রতি সহনশীলতার মাধ্যমেই শক্তি অর্জন করতে হবে। চামচাদের তোষামোদে এবং অবৈধ সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় যেন দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।

আরও পড়ুন